গত সোমবার রাতে ১০টার দিকে মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী রেনুজা বেগম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম, তার মা নাছিমা বেগম এবং খালা তাছলিমা বেগমকে আসামি করে মনোহরদী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকেই গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
জানা যায়, বাদী রেনুজা বেগমের মেয়ে তামান্না এবং আসামি তাছলিমার মেয়ে নাদিয়া স্থানীয় একটি মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তারা এক সঙ্গে যাতায়াত করত। গত রোববার বিকেলে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে তামান্না খেলার ছলে নাদিয়াকে এক ধরনের গাছের পাতা (গায়ে লাগালে চুলকানি হয় এমন পাতা) লাগিয়ে দেয়। পরে নাদিয়া বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে বিষয়টি তার মাকে জানায়। এতে তাছলিমা ক্ষিপ্ত হয়ে তামান্নার বাড়িতে গিয়ে গালাগাল করে। পরদিন (সোমবার) রাত ১০টার দিকে তাছলিমা, তার বোন নাছিমা এবং ভাগনে সাইফুল ধারাল অস্ত্র নিয়ে বাড়ির অদূরে সিরাজ উদ্দিনের দোকানে এসে পুনরায় গালাগাল করতে থাকে। তাদের গালাগাল শুনে সিরাজের ছেলে রাকিব ও ভাতিজি পাপ্পি আক্তার ঘটনাস্থলে আসেন। পরে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল।
.png)
একপর্যায়ে সাইফুল উত্তেজিত হয়ে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে পাপ্পির পেটে আঘাত করে। পাপ্পিকে রক্ষা করতে সাইফুলের হাত ধরতে যায় রাকিব। এ সময় নাছিমা এবং তাছলিমা রাকিবকে ঝাপটে ধরলে সাইফুল ছুরি দিয়ে তার বুকে আঘাত করে। রাকিবকে বাঁচাতে তার বাবা এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পাপ্পিকে সেখানে ভর্তি করেন এবং রাকিব এবং তার বাবাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান । সেখানে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাকিব মারা যায়। গুরুতর আহত সিরাজ উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে সিরাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
মনোহরদী থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।