তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতা জনগণের আঙিনায়: কাদের গনি
বিএফইউজে মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
.png)
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ডেল্টাগ্রামের একটি জনমত জরিপে সরকারের প্রতি ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ সমর্থন ও সন্তুষ্টির তথ্য উঠে এসেছে। তার দাবি, এর মধ্য দিয়ে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে জনগণের কাছে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সভাপতি নাছিম আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ আলী খান, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ প্রবাসী বাংলাদেশি ও সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন।
কাদের গনি চৌধুরী দাবি করেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশে বিএনপির অবদান রয়েছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, দেশের মানুষ তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছেন।
সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডলার ও ভারতীয় রুপির বিপরীতে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বর্তমানে টাকা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তার দাবি, বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়তে পারে।
তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন তিনি।
ব্যাংক খাতের সংস্কার ও ঋণ আদায়ের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয়সংযমের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সীমিত রাখা, চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রাখা, সরকারি গাড়ি কেনায় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ সীমিত করা এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগকে তিনি সরকারের পরিবর্তিত কর্মপদ্ধতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণ, ঋণ ও সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষক কার্ড কার্যক্রমও বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে।
তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ ও সংশ্লিষ্ট সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। রমজান ও ঈদে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী ‘হেলথ কার্ড’, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করা, শিক্ষা পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় যুক্ত করা, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, নদী-খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।