ভুয়া অডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগে কর্মরত অবস্থায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য টানা ছয়বার শ্রেষ্ঠ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছিলেন মো. মোস্তাক সরকার। বর্তমানে লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে থাকা এই জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া অডিও ছড়িয়ে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পল্লবী থানা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে ওয়ার্ক ভিসায় লাওস পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৩ মাস আগে তার মূল পাসপোর্ট এবং নগদ ত্রিশ হাজার টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানা ও তার অফিস সহকারী। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ওয়ার্ক ভিসা না দিয়ে ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয় ট্যুরিস্ট ভিসা। ভুক্তভোগী ট্যুরিস্ট ভিসায় যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত সোহেল রানা তার কাছে উল্টো ২ লাখ টাকা (১,৮০০ ডলার) জরিমানা দাবি করেন এবং ভুক্তভোগীর মূল পাসপোর্ট আটকে রাখেন। কোনো উপায় না পেয়ে গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে পল্লবী থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন মোল্লা।
.png)
পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি সুরহা না হওয়ায় উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। অডিও'র কথোপকথনে শোনা যায়, ডিসি মোস্তাক সরকার তাকে ভুক্তভোগীর আটক রাখা পাসপোর্ট ও ত্রিশ হাজার টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে বলেন এবং তা না করলে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা গ্রহণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আইনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে অভিযুক্ত সোহেল রানা আইনি হাত থেকে বাঁচতে এবং জনমনে ভুল বার্তা দিতে কৌশলে পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশনার মূল অংশ এডিট করে কেটে বাদ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেবল আইনি সতর্কবার্তার অংশটুকু এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন পুলিশ কর্মকর্তা অনৈতিকভাবে টাকা দাবি ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের হুমকি দিচ্ছেন।

ঘটনার সত্যতা জানতে চাওয়া হলে মিরপুর বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার ও বর্তমান লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কথোপকথন ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ না দিয়ে কিছু অংশ কেটে ও বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। সোহেল রানা বেআইনিভাবে ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট ও টাকা আটকে রেখেছিলেন। পল্লবী থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীকে সহায়তার অংশ হিসেবে আমি তাকে ফোন করে আইনগত ব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিই। বলি যে—আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা হলে বিষয়টি জটিল হবে এবং আপনার প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলবে। সেই আইনি হুঁশিয়ারির অংশবিশেষ কেটে বাদ দিয়ে মনগড়া ও বিকৃত প্রচার চালিয়ে সে নিজের অপরাধ ঢাকার অপচেষ্টা করছে।
এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের হেয় প্রতিপন্ন করতে এ ধরনের ভুয়া ও বিকৃত তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অভিযুক্ত সোহেল রানা জানান, ডিসি মোস্তাক সরকার মূলত ভুক্তভোগীকে সাহায্য করার জন্যই তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ডিসি মোস্তাক সরকার অভিযোগকারীকে সাহায্য করার জন্য কল করেছেন। উনি দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আমাকে কল করে সতর্ক করেছেন এবং নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কল রেকর্ড কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেল তা আমার জানা নেই।
এভাবে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কল রেকর্ড বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়ে প্রকাশ করা ঠিক হয়নি উল্লেখ করে সোহেল রানা আরও বলেন, এভাবে প্রচার করা একদমই উচিত হয়নি। আমি নিজেও এই বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।