ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ পেশা ও জীবন ]

যারা কানাডায় ভবিষ্যৎ গড়তে চান

গোলাম কবীর
প্রকাশিত: ১১:১২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যারা কানাডায় ভবিষ্যৎ গড়তে চান
কানাডায় চাকরির আবেদন করার সময় স্থানীয় নিয়োগব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত পরিবর্তন করা, নিজের দক্ষতা ও অর্জন তুলে ধরা এবং প্রয়োজনীয় রেফারেন্স প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া

আপনি যদি কানাডার মাটিতে পা রেখেই চাকরি চান? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন‍্য। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন । বাংলাদেশ থেকে যেসব স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী কানাডায় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের জন্য এই লেখাটি কাজে আসতে পারে। 

বর্তমানে কানাডার শ্রমবাজার বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট- এখানে শুধু পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে দক্ষ কারিগর বা প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি কর্মীদের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। 

কানাডায় এসে মাসের পর মাস চাকরির পেছনে দৌড়াতে চান না? তবে দেশ ছাড়ার আগেই নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করুন, যাতে চাকরির জন্য আপনাকে নয়, বরং চাকরি আপনাকে খুঁজে নেয়!

Advertisement

কানাডা সরকারও তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এই খাতের পেশাজীবীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাই কানাডা যাওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই হতে পারে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

কানাডার জব মার্কেটে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে দক্ষ কারিগরদের। দেশটিতে পাড়ি জমানোর আগে বাংলাদেশ থেকেই নিচের যেকোনো দুটি কাজে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং সরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট অর্জন করে নিন:

যেকোনো ২টি কাজের দক্ষতা ও সার্টিফিকেট:
 • অটো মেকানিক
 • ইলেকট্রিক্যাল বা বৈদ্যুতিক কাজ
 • প্লাম্বিং বা পাইপলাইনের কাজ
 • বাড়ি রিনোভেশন (নির্মাণ ও মেরামত)
 • হোম অ্যাপ্লায়েন্স মেরামত: ফ্রিজ, লন্ড্রি ড্রাইয়ার, ওয়াশার, ওভেন এবং এয়ার কন্ডিশন (HVAC)।
 • সেলফোন ট‍েকনেশিয়ান
 • লেপটপ টেকনেশিয়ান

এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই কাজগুলো ভালোভাবে জানা থাকলে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারলে কানাডার কেন্দ্রীয় দক্ষ কারিগর কর্মসূচির অধীনে অত্যন্ত সহজে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়।

কেন এই দক্ষতাগুলো আপনাকে এগিয়ে রাখবে?

  • কানাডায় এই কাজগুলোর দৈনিক খরচ অত্যন্ত বেশি। তাই দক্ষ লোকের অভাব এখানে সবসময়ই থাকে। এই কাজগুলো ভালোভাবে জানা থাকলে কানাডার Federal Skilled Trades Program (FSTP) এর মাধ্যমে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি (PR) পাওয়াও অনেক সহজ হয়ে যায়।

কানাডায় আসার আগে অতিরিক্ত যে ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক:
১. অভিজ্ঞতা: অন্তত ৬ মাসের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা। কাজের রেফারেন্স লেটার বা অভিজ্ঞতা সনদ সংগ্রহে রাখুন।

২. ইংরেজি ভাষা: ইংরেজিতে দারুণ সাবলীল হোন। চাকরির ইন্টারভিউ এবং IELTS General-এ ভালো ব্যান্ড স্কোর অর্জনের প্রস্তুতি নিন।

৩. ড্রাইভিং লাইসেন্স: কানাডায় কাজের জন্য নিয়মিত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে হয়। তাই গাড়ির ড্রাইভিং জানা বাধ্যতামূলক এবং এটি আপনার কাজের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ কারিগরি কাজ, প্রযুক্তি, পরিবহন, শিক্ষা ও লজিস্টিকস খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে। অঞ্চলভেদে চাহিদাও ভিন্ন। যেমন স্বাস্থ্যসেবায় অন্টারিও, আলবার্টা ও নোভা স্কশিয়ায় সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি খাতে অন্টারিও, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও কুইবেকে বিভিন্ন সুযোগ পাওয়া যায়।

চাকরির জন্য টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, ক্যালগারি, এডমন্টন, অটোয়া, মন্ট্রিয়ল ও হ্যালিফ্যাক্সের মতো শহর বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কুইবেকে অনেক চাকরির জন্য ফরাসি ভাষার প্রয়োজন হতে পারে।

কানাডায় চাকরির আবেদন করার সময় স্থানীয় নিয়োগব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত পরিবর্তন করা, নিজের দক্ষতা ও অর্জন তুলে ধরা এবং প্রয়োজনীয় রেফারেন্স প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডার সরকারও বর্তমানে দক্ষ পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে, সঠিক কৌশল ও বাস্তব দক্ষতাকে পুঁজি করে প্রস্তুতি শুরু করে দিন।

লেখক : গোলাম কবীর, টরন্টো, কানাডা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
পেশা ও জীবন জনপ্রিয় খবর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!