ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

[ পেশা ও জীবন ]

আত্মসম্মানে আঘাত করে এমন জায়গা থেকে সরে আসুন

জি এম কামরুল হাসান
প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
আত্মসম্মানে আঘাত করে এমন জায়গা থেকে সরে আসুন
জীবন মানে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা। নিজের মাথা উঁচু রেখে, নিজের আয়নায় নিজের দিকে তাকাতে পারা।

আমরা প্রতিদিন যে কাজ করি, সেই কাজই ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তা, আত্মসম্মান এবং আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।  যে জায়গায় বারবার ছোট করা হয়, কথা দিয়ে আঘাত করা হয়, মানুষ হিসেবে সম্মানটুকু কেড়ে নেওয়া হয়—সেখানে টিকে থাকা কোনো সাহসিকতা নয়। বরং সেটাই নিজের প্রতি সবচেয়ে বড় অবিচার। কারণ অপমান সহ্য করাকে অনেক সময় ভুল করে “ধৈর্য” বলা হয়, অথচ প্রতিদিনের অপমান মানুষকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দেয়।

যে কাজ আত্মসম্মানে আঘাত করে, সেখান থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ কাজ শুধু মাসের শেষে বেতন পাওয়ার নাম নয়—কাজ মানে নিজের পরিচয় বহন করা, নিজের অবস্থানকে প্রতিদিন সম্মানের সাথে ধরে রাখা, নিজের মূল্যবোধের সাথে আপস না করে বেঁচে থাকা। 

অনেকে বলে,
“এটা তো চাকরি—সহ্য করতেই হবে।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো—কতটা সহ্য করা উচিত?

সহ্য করারও একটা সীমা থাকা দরকার। কারণ কোনো চাকরির মূল্য কখনোই নিজের মর্যাদা হারানোর চেয়ে বড় হতে পারে না।  মর্যাদা হারালে শুধু মন ভাঙে না—ভেঙে যায় আত্মবিশ্বাস, ছোট হয়ে আসে স্বপ্ন, আর মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকেই চিনতে ভুলে যায়।

এক সময় দেখা যায়—
আয় আছে, কিন্তু শান্তি নেই।
কাজ আছে, কিন্তু তৃপ্তি নেই।
চারপাশে মানুষ আছে, কিন্তু নিজের ভেতরটা ফাঁকা।

টাকা প্রয়োজন—এতে কোনো সন্দেহ নেই। জীবন চালাতে টাকা দরকার, পরিবার চালাতে টাকা দরকার, ভবিষ্যৎ গড়তেও টাকা দরকার। কিন্তু টাকা কখনোই দৈনিক অপমানের মূল্য হতে পারে না। 

যে টাকার জন্য প্রতিদিন নিজেকে ছোট হতে হয়, নিজের অনুভূতিকে গিলে ফেলতে হয়, নিজের চোখে নিজের দাম কমে যেতে থাকে—সে টাকা শেষ পর্যন্ত সুখ আনতে পারে না। বরং সেই টাকা মানুষের ভেতরে জমে থাকা কষ্ট, ক্ষোভ আর হতাশার ওজন বাড়ায়। ধীরে ধীরে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে—কাজে নয়, জীবনে। 

তখন আর কাজ বদলানোর শক্তিও থাকে না, শুধু বেঁচে থাকার দায়টা বয়ে বেড়ানো হয়।
জীবন তো শুধু বেঁচে থাকার নাম নয়।
জীবন মানে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা।
নিজের মাথা উঁচু রেখে, নিজের আয়নায় নিজের দিকে তাকাতে পারা।

তাই কখনো যদি দেখো—
কোনো কাজ তোমাকে প্রতিদিন ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে,
নিজের চোখে নিজের দাম কমে যাচ্ছে,
নিজের মতো করে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলছ—
তাহলে বুঝে নিও, সমস্যাটা তোমার না।

সমস্যাটা সেই জায়গার, যে জায়গা তোমার মর্যাদাকে সম্মান করতে শেখেনি।
কখনো কখনো ছেড়ে চলে যাওয়াই পরাজয় নয়—
বরং সেটাই হয় নিজের প্রতি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!