ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ পেশা ও জীবন ]

পেশাজীবনে হাঙ্গরের তাড়না না থাকলে নিজেকে সক্রিয় রাখা কঠিন

এস এম মুকুল
প্রকাশিত: ১১:৫০, ১১ অক্টোবর ২০২৬
পেশাজীবনে হাঙ্গরের তাড়না না থাকলে নিজেকে সক্রিয় রাখা কঠিন
মাছগুলো জীবন বাঁচানোর তাগিদে ট্যাংকের বদ্ধ পানিতে ছুটে বেড়ায়, সতর্ক থাকে, এতে করে তারা আর আগের মতো নির্জীব হয়ে পড়ে না। সবসময় সতেজ থাকে

জাপানীরা তাজা মাছ খেতে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু‘ কয়েক বছর ধরে উপকূলীয় এলাকায় খুব বেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছিলো না! তাই জাপানের মাছের বিপুল চাহিদা পূরণ করার জন্য ফিশিং কোম্পানী এবং জেলেদের মাছ ধরার ট্রলারগুলোর আকার বাড়তে লাগলো এবং দূর সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো! 

এরফলে দেখা গেল-দূর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া এবং মাছ নিয়ে ফিরে আসতে আসতে অনেক সময় লেগে যেত! এই সময়ের মাঝে মাছগুলোর ফ্রেশনেস থাকতো না। তাই জাপানীরা এইসব মাছ পছন্দ করতো না। যার কারণে ফিশিং কোম্পানীগুলো ভাবনায় পড়ে গেল। 

  • অবশেষে তারা সমাধান বের করলো। প্রতিটি মাছ ধরার ট্রলারে বড় বড় ফ্রিজ দিয়ে দেওয়া হলো। ফ্রিজে রাখায় মাছ আর পঁচতো না। ফলে ট্রলারগুলো আরো বেশি দূরে এবং বেশি সময় ধরে সাগরে অবস্থান করতে পারতো। 

কিন্তু ফ্রিজে রাখা মাছ না পঁচলেও, তার সজীবতাটা তাজা মাছের মতো আর থাকে না। জাপানীরা খেতে গিয়েই তা বুঝতে পারতো। তাই এই মাছগুলোকেও তারা পছন্দ করতো না। 

ফলে ফিশিং কোম্পানীগুলো আবার চিন্তায় পড়ে গেল এবং নতুন সমাধান বের করলো।

তারপর থেকে ফিশিং কোম্পানীগুলো তাদের মাছ ধরার জাহাজগুলোতে ফ্রিজের পরিবর্তে বড় বড় পানির ট্যাংক রাখতে শুরু করলো। মাছ ধরার সাথে সাথেই সেগুলোকে ট্যাংকের পানিতে ছেড়ে দেওয়া হতো। ফলে মাছগুলো জীবিত থাকতো। আর তারাও আগের চেয়ে বেশি সময় সাগরে অবস্থান করে বেশি মাছ সংগ্রহ করতে পারছিল। 

তারপরও পানির ট্যাংকে রাখা মাছও সজীব থাকতো না। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় দিনের পর দিন আবদ্ধ থাকার ফলে মাছগুলো টায়ার্ড ও নির্জীব হয়ে যেত! তাদের সজীবতা হারাতো। জাপানীরা খাবার টেবিলে এই মাছগুলোর সাথে তাজা মাছের পার্থক্য বুঝতে পারতো! তাই এই মাছগুলোকেও তারা পছন্দ করতো না। 

ফিশিং কোম্পানীগুলো আবার সমস্যায় পড়ে গেল।

  • জানলে অবাক হবেন, জাপানীরা এখনো তাজা মাছই খায়। সেই একই ফিশিং কোম্পানীগুলোই তাদেরকে বছরের পর বছর ধরে তাজা মাছের যোগান দিচ্ছে। কিন্তু কিভাবে এটা সম্ভব? 

এখনো তাদের ট্রলারগুলো বড় বড় পানির ট্যাংক নিয়ে মাছ ধরার জন্য সমুদ্রের বুকে দূর-দুরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন তারা তাদের পানির ট্যাংকগুলোতে একটা করে ছোট হাঙ্গর রেখে দেয়। হাঙ্গর ট্যাংকের ভিতরে থাকা মাছগুলোর জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। 

মাছগুলো জীবন বাঁচানোর তাগিদে ট্যাংকের বদ্ধ পানিতে ছুটে বেড়ায়, সতর্ক থাকে, এতে করে তারা আর আগের মতো নির্জীব হয়ে পড়ে না। সবসময় সতেজ থাকে। আর ফিশিং কোম্পানীগুলো এই সতেজ মাছগুলোকেই বাজারজাত করে !

অতএব, পেশাজীবনে এমন হাঙ্গরের তাড়না না থাকলে নিজেকে সক্রিয় রাখা কঠিন- সফল হওয়াও কঠিন।

সূত্র : লেখকের 'পেশাজীবনে সফলতার কথকতা' প্রকাশিতব্য গ্রন্থ থেকে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!