পশুর হাটে ডিজিটাল ছোঁয়া
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট পরিসেবা এখন মানুষের হাতের কাছে এসে পৌঁছেছে। ছোট বড় সবার হাতে শোভা পাচ্ছে স্মার্ট মোবাইল ফোন সেট। আর ইন্টারনেটের কল্যাণে পশুর হাটে ও ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে। পশুর হাটে কেউ পশুর ছবি তুলছেন কেউ বা ভিডিও এর মাধ্যমে আপনজনের সঙ্গে কথা বলছেন।
আবার কেউ পছন্দ করা পশুর দরদাম নিয়ে দূর থেকেই দাম নির্ধারণ করে পশু ক্রয় করছেন। এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পশুর হাটে। তাছাড়া পশুর প্রচারে পিছিয়ে নেই খামারি ও গৃহস্থরা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে পশুর ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করছেন। পশুর হাটে স্বাভাবিক কেনাবেচার পাশাপাশি অনেক পরিবারের সদস্যরা যারা প্রবাসে রয়েছেন তাদের দেশে থাকা স্বজনরা প্রথমে পশু দেখে পছন্দ করছেন।
এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেখে পশু পছন্দ করছেন। মূলত যাদের বাবা,ছেলে সন্তান, ভাইসহ পরিবারের নিকটম লোকজন প্রবাসে রয়েছেন তারা স্মার্ট ফোনের কল্যাণে ইমো, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন অ্যাপ এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশ লোকদেরকে পশু দেখিয়ে পছন্দ করে তারা কেনা কাটা করছেন।
.png)
উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের মো. কামরুল ইসলাম বলেন, তার ৪ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার ৪ ছেলে সৌদি আরবে আছেন। প্রবাসে থাকা ২ ছেলে ঈদের আগের দিন বাড়িতে আসার কথা রয়েছে। দেশে থাকতে তাদের পছন্দ অনুযায়ী কোরবানির গরু কেনা হতো। কিন্তু তারা দেশের বাইরে থাকায় পশুর হাটে ইমোতে কল দিয়ে ছেলেদেরকে গরু দেখিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়েছে।
দক্ষিণ ইউনিয়নের মো: হোসেন মিয়া বলেন, তার বাবা, দুই ভাই ও চাচা প্রবাসে আছেন। বাড়িতে মা, ছোট ভাই ও আমি ছাড়া কেউ নেই। পশু ক্রয় নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। হাটে এসে ইমোতে বেশ কয়েকটি গরুর ছবি ভিডিও তাদের কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২টি গরু পছন্দ হলে ১টি গরু ১লাখ ২০ হাজার টাকায় কেনা হয়।
ক্রেতা মো. হাসেন মিয়া বলেন, তার দুই ছেলে প্রবাসে রয়েছে। তাদের খুবই শখ কোরবানির পশু দেখে ক্রয় করার। তাই বাজারে এসে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখানো হয় পশু। এরমধ্যে ভিডিও দেখে একটি গরু পছন্দ হলে কেনা হয়।
বাজার ইজারাদার মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, এখানে ক্রেতা বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে পশু ক্রয় বিক্রি করছেন। এই হাটে কোনো প্রকার হয়রানি নেই।
আখাউড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পযর্ন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫৩৫টি খামারসহ, পারিবারিকভাবে কৃষক তাদের বাড়িতে মোটাতাজা করণসহ ৪ হাজার ৬১টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে গরু ৩১৪৫ মহিষ ১০৭ ও ছাগল ৩৯২টি । তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় সদর উপজেলাসহ অন্যান্য স্থান থেকে আরো ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারসহ মোট ৭ হাজার পশু আসবে বলে আশা করছেন।