ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পেশায় গৃহিণী চুমকির যত সম্পদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:২৫, ২৭ জুলাই ২০২২
পেশায় গৃহিণী চুমকির যত সম্পদ
ফাইল ছবি

পেশায় গৃহিণী হলেও দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে নিজেকে ‘মৎস্য খামারি’ দাবি করেছিলেন প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। সেখানে বলেছিলেন- ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মৎস্য খামার শুরু করেছিলেন তিনি। যা থেকে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করে কিনেছিলেন জমি, গাড়ি-বাড়ি।

তবে দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, পাঁচলাইশে বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব ও কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। তার চার কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। এক্ষেত্রে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায় দুদক। এছাড়া চুমকির দাবি করা মৎস্য ব্যবসায়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পাথরঘাটার ছয়তলা বাড়ির বিষয়ে চুমকি সে সময় দুদককে জানান, ২০১৩ সালে বাড়িটি তাকে দান করেন বাবা। যদিও চুমকির অন্যান্য ভাই ও বোনদের তার বাবা কোনো সম্পত্তি দান করেননি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৬ সালে শ্বশুরের নামে বাড়ির জমি কেনেন প্রদীপ। এরপর ছয়তলা বহুতল ভবন গড়ে তোলেন।

Advertisement

প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে আজ। রায়ে প্রদীপকে ২০ বছর ও চুমকিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের চার কোটি টাকা জরিমানা ও সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট মামলাটি করেন দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন। পরে গত বছরের ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার এজাহারে উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!