ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঢাকায় গৃহবধূকে হত্যা করে অভিভাবককে ফোন, ঝালকাঠিতে এনে দাফন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২২, ১৫ আগস্ট ২০২২
ঢাকায় গৃহবধূকে হত্যা করে অভিভাবককে ফোন, ঝালকাঠিতে এনে দাফন
ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকার ভাড়াটিয়া বাসায় এক সন্তানের জননী গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস হাসিকে ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পল্লবী থানার পলাশ নগরের বেলতলা এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ওই রাতেই ঢাকায় রওনা দিয়ে ভোরে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার বিকেলে ঝালকাঠিতে নিয়ে আসে মৃত গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজন।

সোমবার (১৫আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা পরিষদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত হাসি ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার জেলা পরিষদ ভবনের পেছনে বাবুল তালুকদারের মেয়ে এবং রাজাপুর উপজেলার বাইপাস এলাকার মোয়াজ্জেম হাওলাদারের ছেলে রাজু আহমেদ’র স্ত্রী। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

Advertisement

মৃত হাসির আত্মীয় ঝালকাঠি বাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রনি জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসির স্বামী রাজুর এক বন্ধু পরিচয়ে ফোন দিয়ে ভাই কাওসারকে বলেন, আপনার বোন খুব বেশি অসুস্থ, তাকে দেখতে হলে এখনই চলে আসুন। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই এলাকার কাউন্সিলর পরিচয়ে বাবা বাবুল তালুকদারকে ফোন দিয়ে বলেন, আপনার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন, তাড়াতাড়ি চলে আসুন। তখনই প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরই মধ্যে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পল্লবী থানা পুলিশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গে নেয়।

হাসির স্বামী রাতেই বাদী হয়ে পল্লবী থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। মর্গে পোস্ট মর্টেমের সময় ওই এলাকার লোকজন এবং পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়া বাসার লোকজন ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায় যায়নি। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাজু তার স্ত্রী হাসিকে হত্যা করে। স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে সব ম্যানেজ করে তাদের সাজানো নাটক বাস্তবায়ন করছে। ওখানে কারো কাছে আমাদের কথা বলার মতো কোনো সুযোগ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আব্দুর রাজ্জাক রনি।

হাসির বাবা বাবুল তালুকদার বলেন, আমার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই মারধর করতো। মারধরের সময় তাকে বারবার মাথায় আঘাত করা হতো। এমন একাধিকবার ঘটনা ঘটেছে। তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করতে মানসিক ডাক্তার দেখালেও তার প্রেসক্রিপশন ঘরে রাখতো কিন্তু কোনো ওষুধ সেবন করাতো না। আমি আমার মেয়ে হত্যা বিচার চাই। 

বোনের শোকে কাতর মিল্লাত হোসেন বলেন, আমার বোন নরম ও শান্ত স্বভাবের ছিল। যৌতুকের দাবিতে প্রায় মারধর করতো। আমাদের কাছে কান্নাকাটি করে নালিশ করতো কিন্তু আমরা গরিব বিধায় উপায়হীন ছিলাম। যৌতুকের শেষ পরিণতিতে আমার বোনকে হত্যা করেছে ওরা। ওখানে আমার আড়াই বছর বয়সী ছোট একটা ভাগিনা আছে। ওরেও কোথায় যেন লুকিয়ে রাখছে, আমাদের কথাও বলতে দেয়নি। ঢাকার ঘটনায় সেখানে গিয়ে ওদের অর্থ ও প্রভাবের কারণে মামলা দেয়া তো দূরের কথা, আমরা কোন পাত্তাই পাইনি। আমাদের বোন হত্যাকারীদের নামে ঝালকাঠি থানায় মামলা গ্রহণ, গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। 

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান জানান, ঝালকাঠির সন্তান হলেও দুর্ঘটনার স্থান ঢাকার পল্লবী থানায়। পোস্ট মর্টেম হয়েছে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে। পল্লবী থানায়ই তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!