একই সঙ্গে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জহুরুল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া ভাটপাড়া এলাকার আহসান উল্লাহ কারিকরের ছেলে।
.png)
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জহুরুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পরই তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি খসরুল আলমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রী সাথী খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী জহুরুল ইসলাম। হত্যার পর তার লাশ কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর পুলিশ লাইন এলাকায় বেলে পুকুরে ফেলে দেয় স্বামী জহুরুল। দুদিন পরে ১০ আগস্ট সকালে লাশ পানিতে ভেসে উঠে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জহুরুল ইসলামের সঙ্গে প্রেম করে বিবাহ করে সাথী। সাথী জহুরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী। জহুরুলের প্রথম স্ত্রীর দুটি সন্তান ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রীকে আলাদা জায়গায় ভাড়া বাসায় রাখতেন। বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য টাকা চাইলে সাথীর গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী জহুরুল।
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। হত্যা মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হুসাইন আসামির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতের বিচারক মামলার আসামি জহুরুলকে শাস্তির আদেশ দেন এবং অপর আসামিকে খালাস দেন।
আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।