টাঙ্গাইলে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি আটক
টাঙ্গাইলে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে আটক করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তারা হলেন, সদর উপজেলার চৌবাড়ীয়া গ্রামের ওমর আলীর ছেলে মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত মো. শাহাদৎ হোসেন ও সখীপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের মৃত দরবেশ আলীর ছেলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. বাদল মিয়া।
র্যাব ১২ সিপিসি ৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাদল মিয়া এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে পরিত্যক্ত ঘরে ছয় মাস আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। ওই বছর ২৯ জুলাই ওই ছাত্রীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে সখীপুর থানায় বাদল মিয়াকে আসামি করে মামলা করেন। বাদল মিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০১৮ সালের ১ জুন তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুল ইসলাম বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
.png)
মামলা চলাকালে বাদল মিয়া জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন বাদল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
র্যাব কমান্ডার আরো জানান, ২০০২ সালে দণ্ডিত আসামি মো. শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের আউলটিয়া গ্রামের জাহেরা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ থেকে ৪ মাস পরে ১০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে শাহাদাৎ। জাহেরা খাতুনের পরিবার যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় শাহাদাৎ স্ত্রীকে নির্যাতন করে। পরে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর শাহাদাৎ শ্বশুরবাড়িতে যায়। পরের দিন ভোরে বাড়ির লোকজন বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি পুকুরে জাহেরা খাতুনের লাশ ভেসে থাকতে দেখে। লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
ওইদিনই মৃতের ভাই ইউনুস আলী বাদী হয়ে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা করেন। শাহাদাৎ হোসেন জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলায় চিকিৎসক, আইওসহ মোট ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৩ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন আসামি শাহাদতের অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।