ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মিশ্র ফল-সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২৭, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
মিশ্র ফল-সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক
মিশ্র ফল-সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

দেশের কৃষিতেও উন্নত বিশ্বের ন্যায় প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। একই জমিতে ফলছে হরেক রকমের সবজি, ফলমূল। আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে মিশ্র সবজি চাষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে মিশ্র চাষাবাদ। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার কালিনগর,সাতপাড়া, হীরাপুর, বাউতলা, উমেদপুর আজমপুর, চানপুসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মিশ্র সবজি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।  এসব এলাকার কৃষকরা নিজস্ব পতিত জমি কিংবা বাড়ি সংলগ্ন জায়গায় মৌসুম বেধে লালশাক, ডাটাশাক, পুইশাক, কলমিশাক, ঢেড়শ, বরবটি, টমেটো, লাউ ও লাউশাক, পাটশাক, শশা, কাঁচকলা, বেগুন, পেপে, করলা, কচুশাক, কচুর লতি, ধনে পাতাসহ নানা প্রকার নানা প্রকার সবজি চাষ করছে। কীটনাশক মুক্ত ওইসব শাক সবজি উৎপাদন করে নিজ পারিবারের  পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে  ও বিক্রি করে তারা বাড়তি আয় করছেন। 

মিশ্র ফল-সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

Advertisement

উপজেলার মোগড়া ইউপির ধাতুরপহেলা গ্রামের কৃষক মোস্তাকিম সরকার বলেন, এ মৌসুমে তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা চাষ করেছি। এরমধ্যে শুধু মাত্র ১১ বিঘা জমিতে গ্রাফটিং ২৫ হাজার টমেটোর চারাগাছ রোপণ করেছি । প্রতি ১ বিঘায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, জমি ইজারা, পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ বাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১১ বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ করতে এ পযর্ন্ত তার খরচ হয় ১১ লাখ টাকা।  প্রতি কেজি টমেটো ৭০-৭৫ টাকা দরে দৈনিক ৮-১০ মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে। এই পযর্ন্ত তিনি প্রায় ৬ লাখ টাকার উপর টমেটো বিক্রি করেছি।

কৃষক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, বাড়ি সংলগ্ন ৩০ শতক পতিত জমিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার না করেই বছরজুরে দেশীয় পদ্ধতিতে লালশাক, ডাটাশাক, পুইশাক, কলমিশাক, ঢেড়শ,ও পাটশাক, শসা, বেগুন চাষ করেছি। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে লালশাক, ডাটাশাক, পুইশাকসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি নষ্ট হলেও আবার চাষ করেছি সব সবজি।

মিশ্র ফল-সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

কৃষক আতাউর রহমান বলেন, বাড়ি সংলগ্ন ৩০ শতক জায়গার মধ্যে ২৫০টি সীডলেস লেবুর কলম করা চারা রোপণ করা হয়েছে। চারা কেনা, জমি তৈরি, রোপণ, সেচ ও সারসহ অন্যান্য মিলে তার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চারা লাগানোর প্রায় ১৭ মাসের মাথায় ফলন আসতে শুরু করে। দৈনিক প্রায় আড়াই শতাধিকের উপর লেবু বিক্রি করা হচ্ছে। লেবু বিক্রিতে আমার মাসিক আয় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। 

কৃষক মো. আবু ইউসুফ বলেন, ধান জমি বর্গা করার পাশাপাশি বাড়ি সংলগ্ন ৬০ শতক জায়গায় মিশ্র প্রজাতির লালশাক, পুইশাক, বরবটি, লাউ ,বেগুন, পেঁপেসহ মিশ্র প্রজাতির নানা প্রকারের সবজি চাষ করছি। চাষ করতে  আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। এ পযর্ন্ত ৪০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। 

মিশ্র ফল-সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

আখাউড়া কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারমাসই নানা প্রকার সবজি আবাদ করেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি অফিসের তৎপরতায় মিশ্র সবজি চাষে ভালো সফলতা পেয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। কম খরচে লাভ বেশী হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজির আবাদ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!