ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লাকসামে স’মিল শ্রমিককে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৫, ১ নভেম্বর ২০২২
লাকসামে স’মিল শ্রমিককে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লাকসামে এক স’মিল শ্রমিক বটি দিয়ে কুপিয়ে আরেক শ্রমিককে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  এ ঘটনায় অভিযুক্ত স’মিল শ্রমিককে স্থানীয়রা আটকের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। 

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার খিলা উত্তর বাজারে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন লাকসাম থানার ওসি মেসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া।

নিহত মনির হোসেন নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউপির উরুকচাউল গ্রামের মৃত হাবিব উল্লার ছেলে। মনির এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাইনুদ্দিন লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

Advertisement

জানা গেছে, খিলা বাজারের উত্তর অংশে একটি স’মিলের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন নিহত মনির হোসেন। আর অভিযুক্ত মাইনুদ্দিন ছিলেন ওই স’মিলের সহযোগী মিস্ত্রি। মঙ্গলবার সকালে স’মিলে কাজ করার সময় একটি মোবাইল ফোন নিয়ে মনিরের সঙ্গে মাইনুদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এতে মাইনুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। দুপুরের মনির হোসেন পাশের একটি হোটেলে খাবার খেতে যায়। ভাত খাওয়া শেষে বের হওয়ার সময় হোটেলের রান্নার কাজে ব্যবহৃত বটি দা দিয়ে মাইন উদ্দিন মনিরকে কোপ দিতে চেষ্ঠা করে। এসময় মনির প্রাণ বাঁচাতে দোকান থেকে বের হয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে নেমে দৌঁড়ে চলে যাওয়ার সময় মাইন উদ্দিন পেছন দিয়ে মনিরকে বটি দিয়ে কোপাতে থাকে। এসময় বটির আঘাতে মনিরের গলা কেটে গেলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘাতক মাইন উদ্দিন পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণ-পিটুনি দেয়। পরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। 

মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আল-আমিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার পর লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসে। এরপর তারা নিশ্চিত হয় ঘটনাস্থল লাকসাম উপজেলার অংশে পড়েছে। পরে লাকসাম থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায়। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

নিহত মনিরের স্ত্রী জরিনা বেগম বলেন, ২ শিশু নিয়ে এখন কি করবো, কোথায় যাবো। আমার স্বামীর হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

লাকসাম থানার ওসি মেসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করে থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না, সেটি তদন্ত করে দেখছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!