প্রক্সিতে পাশ, মৌখিকে ধরা দুই পরীক্ষার্থী
পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে পাশ করে মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে পঞ্চগড়ে নিয়োগ বোর্ডের কাছে ধরা পড়েছেন দুই নারী পরীক্ষার্থী।
একই সময় জালিয়াতির অভিযোগে আরো দুইজনকে আটক করা হয়। পঞ্চগড় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য সচিব বিপ্লব বড়ুয়া বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে গত সোমবার বিকেলে তাদের আটক করে নিয়োগ বোর্ড। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়।
আটকৃতরা হলেন, পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে ইয়াসমিন, একই উপজেলার মির্জাপুর নলপুকুরি গ্রামের লতিফুর রহমানের মেয়ে মৌসুমি আক্তার, মির্জাপুর তেলিপাড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিন এর ছেলে সাইদুর রহমান, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী বড়বাড়ি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে আসামি ইয়াসমিনের স্বামী এএসআর মাসুদ রয়েল। এদিকে পঞ্চগড় সদরের ধাক্কামারা এলাকার দুলালসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় আসামি ইয়াসমিন এবং মৌসুমী পঞ্চগড় সরকারি গার্লস স্কুলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু প্রক্সির মাধ্যমে অন্যকে অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন। গত সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসেন ইয়াসমিন ও মৌসুমী। এ সময় তাদের পরীক্ষার প্রশ্নের বিষয় জিজ্ঞেস করা হলে এলোমেলো অসংলগ্ন উত্তর দেন। পরিবার কল্যাণ সহকারীরর মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হলে তাদের লিখিত পরীক্ষার দিনের উত্তরপত্রের অনুরূপে সাদা পৃষ্ঠায় লিখতে দেন। এ সময় লিখিত পরীক্ষার লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষায় দেওয়া লেখা কোনো মিল না থাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে কৌশলে বোর্ড প্রক্সির বিষয়টি জানতে পারেন এবং অপর আসামিদের সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে আটক অপর দুইজনকে মৌখিক পরীক্ষায় কৌসলে ডাকা হলে সত্যতা পেয়ে তাদের আটক করে রাতে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের হেফাজতে চারজনকে তুলে দেয়া হয়।
এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ইয়াসমিন শিকার করেন তার ভাই সাইদুর এবং স্বামী রয়েল তাকে লিখিত পরীক্ষায় পাস করার বিষয়ে সহায়তা করেন। এদিকে সাইদুর ও রয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, পঞ্চগড় সদর থানার ধাক্কামারা ইউপির দুলাল নামে পলাতক অপর ব্যক্তি ইয়াসমিনকে পরীক্ষায় না দিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে পাশ করে চাকরি নিয়ে দেবেন বলে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। এদিকে মৌসুমিকেও সাইদুর, রয়েল ও দুলাল টাকার বিনিময়ে প্রক্সির মাধ্যমে চাকরি প্রদান করার চুক্তি করেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা চারজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।