ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৫ হাজার টাকার সুদ-আসল ৫ লাখ দাবি, কৃষকের আত্মহত্যা

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০৩, ৯ ডিসেম্বর ২০২২
৫ হাজার টাকার সুদ-আসল ৫ লাখ দাবি, কৃষকের আত্মহত্যা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বছর তিনেক আগের কথা। কৃৃষি জমিতে চাষ করার জন্য এক সুদ কারবারি থেকে সুদে ৫ হাজার টাকা এনেছিলেন তিনি। তিন বছর পরে সেই সুদে আনা ৫ হাজার টাকার জায়গায় ৫ লাখ দাবি করে ২ বিঘা জমি দখল করেছেন ওই সুদ কারবারি। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই সুদ কারবারি দেয়া মানসিক চাপকে দায়ী করে তাদের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়।

কৃষক বাবুল মল্লিক জেলার ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউপির চিত্তর মোড় এলাকার রসরাজ মল্লিকের ছেলে। পরিবারে তার স্ত্রী ১৫ বছর বয়সী এক ছেলে ও তিন বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় বাবুল মল্লিকের পরিবার থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Advertisement

জানা গেছে, বাবুল মল্লিক কৃষি কাজ করে পরিবারের ভরনপোষণ জোগাতেন।

তিনি বছর তিনেক আগে উপজেলার একই ইউপির হাকাই শিকদারের ছেলে লিটন শিকদারের কাছ থেকে একটি খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর করে ৫ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলেন। বাবুল গরিব কৃষক হওয়ায় ৩ বছরে সেই সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এ জন্য নিয়মিত বাবুলকে চাপ দিচ্ছিলেন লিটন শিকদার। টাকা না পেয়ে সম্প্রতি সেই খালি স্টাম্পে ৫ হাজার টাকার জায়গায় ৫ লাখ টাকা বসিয়ে বাবুল মল্লিকের ২ বিঘা কৃষি জমি দখল করে সুদ কারবারি লিটন শিকদার। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বাবুল। পরে শুক্রবার ভোর রাতে নিজ বাড়ির পাশে থাকা একটি আম গাছের ডালের সঙ্গে গলায় দড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করে বাবুল মল্লিক।

বাবুল মল্লিকের স্ত্রী বুলবুলি মল্লিক বলেন, অভাবে পড়ে লিটন শিকদারের কাছ থেকে টাকা সুদে নিছিল আমার স্বামী। আমরা গরিব হওয়ার সুদে আনা সেই ৫ হাজার টাকা দিতে পারি নি। কিন্তু সে ৫ হাজার টাকার জায়গায় ৫ লাখ বসাইয়া আমাদের ৬ জৈষ্ঠ্য জমি দখল করছে। এটা দেখে আমার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। আমরা লিটন শিকদারের বিচার চাই। 

এ ঘটনায় পর পরই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত লিটন শিকদার। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

নবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন,সকালে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে কি কারণে সে মারা গিয়েছে এখনো জানতে পারিনি। তার পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সাহায্য নিতে বলেছি। 

ডাসার থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগর ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!