ভাই হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করেন মিন্টু
বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদীন মিন্টু। সবার কাছে যার পরিচিতি ‘মিন্টু কমান্ডার’ হিসেবে। জন্ম তার চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌর সদরের জমিদার বাড়িতে। তবে শিক্ষাজীবন শুরু হয় পার্শ্ববর্তী উপজেলা ফটিকছড়ির পাইন্দং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদারদের গুলিতে শহিদ হন মিন্টুর ছোট ভাই কামাল উদ্দিন বাচ্চু। সেই ভাই হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে প্রতিশোধের আগুন বুকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মিন্টু। সাক্ষী হন লাল-সবুজের বিজয়ের।
কথা হয় সেই মিন্টু কমান্ডারের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৭১ সালে পাক হানাদাররা যখন কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামের দিকে আসতে শুরু করে, তখন সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্কুলের ছাদ থেকে তাদের ওপর আক্রমণ শুরু করেন তার ছোট ভাই কামাল। ওই সময় হানাদারদের চালানো গুলি বুকে লাগলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কামাল। পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাকে স্কুলের পাশে সমাহিত করেন।
.png)
বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু জানান, ছোট ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে নানার বাড়ির সবাই তাকে চোখে চোখেই রাখতেন। তবু গোপনে যুদ্ধে যেতে আগ্রহী এমন ২২ জন তরুণকে নিয়ে দেশমাতৃকার বিজয়ের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তিনি। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একদিন ভোরে বেরিয়ে যান ভারতের উদ্দেশ্যে। বর্ডার পার করে দিতে স্থানীয় উপজাতিদের সঙ্গে একশ টাকায় করেন চুক্তি। এরপর এক উপজাতিকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন ভারতের দিকে।
রামগড় উপজেলার এক দুর্গম এলাকা দিয়ে ভারতে পৌঁছান তারা। সেখানে বেশ কিছুদিন প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জনের একটি দল নিয়ে ফিরে আসেন দেশে। ২৫ জনের সেই দলের কমান্ডার ছিলেন মিন্টু। দলটির কাজ ছিল শক্রবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের বিচলিত করে তোলা।
তিনি আরো জানান, নভেম্বর মাসে একদিন ফটিকছড়ির ভুজপুর এলাকার একটি পাকিস্তানি মিলিটারি ক্যাম্প উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। কিন্তু রেকি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান এক রাজাকারের হাতে। যদিও কৌশলে রক্ষা পান।
আরো একবার ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এ বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান, তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও ছোট ভাই কামাল উদ্দিনের নামটি এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বীর শহিদদের সম্মান রক্ষায় কামাল উদ্দিনের নাম শহিদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তিনি।