বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে কুয়াশার সঙ্গে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসহায় দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মজিীবীও খেটে খাওয়া মানুষেরা অনেকটাই বিপাকে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘর থেকে বের হেচ্ছে না। গরম কাপড়ের অভাবে বিপাকে পড়েছেন অসহায় হতদরিদ্র লোকজন। তাদের মধ্যে অনেকে খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্ট করছেন।
.png)
তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ নানা রোগব্যাধি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ওইসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালেও প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা।

পৌর শহরের মসজিদ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা পড়ছে। যে কারণে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের লোকদের চলা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠছে। কাজকর্ম না থাকায় অবসর সময় পার করতে হচ্ছে।
হকার মুছা মিয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের মুখ দেখা যায় না। হাঁড় কাপানো শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে নিম্ন আয়ের লোকদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই।
দিনমজুর সুরুজ মিয়া বলেন,আমরা গরিব মানুষ । কর্মকরে খেতে হয়। তাই তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যে জমিতে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ঠান্ডার কারণে বেশিক্ষণ কাজ করা যায় না। হাত পা যেন অবশ হয়ে আসে।
আলেয়া বেগম বলেন, গত দুই দিন ধরে আর মেয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আজকে অনেকটাই ভালো আছে। ভাবছি বিকেলে বাড়িতে চলে যাবো।
অটোরিকশা চালক মো. ইব্রাহিম বলেন, প্রতিদিন রাত ১১টা পযর্ন্ত রিকশা চালাই। কিন্ত গত কয়েকদিন ধরে শীত ও কুয়াশা থাকায় সন্ধ্যার পর পর অটো রিকশা নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। কারণ অটো রিকশা চালাতে গিয়ে প্রচন্ড ঠান্ডায় তার হাত পা শীতল হয়ে জড়ো হয়ে যায়।
সিএনজি চালক রফিক মিয়া বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলা হেড লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কুয়াশার কারণে কিছু দেখা যায় না। গাড়ি চালাতে ভয় করে। তাছাড়া কুয়াশার কারণে লোক চলাচল কমে যাওয়ায় তাদের আয় ও কমেছে বলে জানায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলায় দিন দিন তীব্র শীত বাড়ছে। কয়েক দিনের মধ্যে আরো শীত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হিমেল খান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে শীত বাড়ছে। তবে শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগ বালায়ের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া নানা বয়সী রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই।