লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনের রহস্য উম্মোচন, গ্রেফতার ৬
লক্ষ্মীপুরে অডিও কল রেকর্ডের সূত্র ধরে নিজ ঘরে স্বামী-স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনার রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ। এর আগে আদালতে দুইজন ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সদরে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত কামরুল হাসান পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী। স্থানীয় কাচারী বাড়ি এলাকায় তার একটি দোকান আছে। হাসানের সঙ্গে তার বন্ধু জুয়েল, বাহার, রুবেল ও কাউছার চলাফেরাসহ আড্ডা দিতেন। একই সঙ্গে হাসানের বাড়ির পাশের ছইমিঝি বাড়ির দুদু মিয়াও আড্ডা দিতেন। কাচারী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় স্বামী আবু ছিদ্দিক ও তার স্ত্রী একাকী বাস করে আসছিলেন।
.png)
সম্প্রতি সময়ে দুদু মিয়ার ভাতিজা গিয়াস ও আবু ছিদ্দিক তাহার ভাইদের থেকে বাড়িতে কিছু সম্পত্তি ক্রয় করেন। এ সুবাদে হাসান ও তার বন্ধুদের দুদু মিয়া তথ্য দেয় ছিদ্দিকের বাড়িতে কিছু টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যাবে। তার গ্রেক্ষিতে হাসান, রুবেল ও বাহার ওই বাড়ির জানালার গ্রিল বেয়ে ছাদ দিয়ে দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় দুদুর। পরে তারা ছিদ্দিকের স্ত্রী আতরের নেছা ও ছিদ্দিকের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। এসময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খাট ভেঙে যায়। পরে তারা আলমারি ভেঙে কিছু না পেয়ে তাদেরকে (স্বামী-স্ত্রী) জিজ্ঞাসা করতে এসে সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা বুঝতে পারেন মারা গেছে তারা। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ঘটনার একদিন পর দুদু মিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে তাদের চুপ থাকার জন্য বলে দুদু মিয়া। দুই দিন পর বিষয়টি জানাজানির পর তারা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তাদের বন্ধু জুয়েল ও কাউছার ঘটনার টাকার ভাগ চান। ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বাক বিতণ্ডা শুরু হয়। গত ৯ জানুয়ারি রাতে শহরের মাদাম এলাকা থেকে কামরুল হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করলে সে ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দী দেন। এরপর পুলিশ অন্যদের গ্রেফতার করে।
সদর উপজেলার শাকচর গ্রামের নিজ বসত ঘরে গত ১৮ অক্টোবর মধ্য রাতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে অর্ধগলিত ও কাপড় মোড়ানো অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সী আবু ছিদ্দিক ও তার স্ত্রী ৬৫ বছর বয়সী আতেরুন নেছা দম্পতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ভাই খোকন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করে।