স্বামীর মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তিতে স্থানীয়রা। এদিকে মেয়রের রেখে যাওয়া অঢেল অর্থসম্পদ আত্মসাত ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই একটি মহলের এমন ঘটনা সৃষ্টির অভিযোগ সুরমির।
এসব ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থানায় মামলাসহ সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত সাগরের স্ত্রী গৃহবধূ নানা হুমকি ধমকিতে প্রাণ নাশের ভয়ে করছেন দিনানিপাত। অন্যদিকে যাকে নিয়ে ঘটনা সেই সাগর কোথায় আছে কেউ জানে না। জনশ্রুতি রয়েছে মালয়েশিয়াতে আত্মগোপনে আছেন। তবে তিনি ফেইসবুকে একটিভ রয়েছেন।
.png)
জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপুর পৌর সভার মেয়র বালু ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আলালকে অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকার স্পেশালাইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে হাসপাতালে ভর্তি থাকা মেয়র আলালের দুই স্ত্রী সদস্য পদে নির্বাচন করেন।
পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া দ্বিতীয় স্ত্রী সুরমি বড় সতিনকে হারিয়ে সদস্য নির্বাচিত হন। পরদিন ১৮ অক্টোবর রাতে দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে থাকা মেয়র আলালের মৃত্যুর খবর আসে। যা ছড়িয়ে পড়ে জেলা উপজেলায়।
এরপর দুই মাস যেতে না যেতেই আলালের কর্মচারী এবং কথিত ভাগনে সাগর খান ও আলালের স্ত্রী জেলা পরিষদ সদস্য সুরমি আক্তার সুমির বাসর রাতের ছবিসহ বেশ কটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জেলা উপজেলায় উঠে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। এই ছবির ভাইরালের পর সাগরের স্ত্রী মুন্নি তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১৬ জানুয়ারি দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে তার দুইদিন পর ১৮ জানুয়ারি আলালের দ্বিতীয় স্ত্রী সাইবার অপরাধে ময়মনসিংহের ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এদিকে হুমকি ধমকির শিকার এবং প্রাণ নাশের ভয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শিশু বাচ্চা নিয়ে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাগরের স্ত্রী।
সাগরের স্ত্রী তামান্না আক্তার মুন্নির অভিযোগ, তার স্বামী গত দেড় বছর আগে মেয়রের কর্মচারীর চাকরি নেন। এরপর থেকেই প্রায় সময় রাত বিরাতে বাড়ি ফিরতো না। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদ করলে মারধর করতো। পরবর্তীতে মেয়রের মৃত্যুর পর তার স্বামীর পরকীয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়। এদিকে প্রায় সময় সাগর তাকে মারধর করে। এনিয়ে ১৬ জানুয়ারি মামলা দেয়ায় তিনি পলাতক। অন্যদিকে ওই নারী অর্থাৎ মেয়রের স্ত্রী সুরমি গুম করে ফেলার হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। যে কারণে পরিবার পরিজনদের নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
জেলা পরিষদের সদস্য ও প্রয়াত মেয়রের স্ত্রী সুরমি আক্তার সুমি অভিযোগ করে বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। দুই পক্ষই মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।