চিকিৎসার ভুলে পুড়লো নবজাতকের দুই পা
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নবজাতক জন্মের পর কান্নাকাটি না করায় সনাতন পদ্ধতিতে নবজাতকের পায়ে হিট দিয়ে দুই পা পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ডা. কেরামত আলী মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। এদিকে, জন্মের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি নবজাতকটি।
জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ রাতে ডা. কেরামত আলী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকার শুকুর আলীর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী তাজ নাহার। রাতেই ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন ডা. মাহমুদা সুলতানা। অস্ত্রোপচারের পর নবজাতকটি কান্না না করায় তাকে সনাতন পদ্ধতিতে হিট দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় অতিরিক্ত হিটে নবজাতকের দুই পা পুড়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য নবজাতককে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
নবজাতকের বাবা শুকুর আলী বলেন, ‘অসাবধানতায় হিট দেওয়ার কারণে আমার সন্তানের দুই পা পুড়িয়ে ফেলেন ডা. কেরামত আলী মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শিশুর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে শিশুর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ধানমন্ডির রেনেসাঁ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসি। সেখানে এ পর্যন্ত আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। তারপরও শিশুটি শঙ্কামুক্ত হয়নি।’
.png)
ডা. কেরামত আলী মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার বিপ্লব দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে নবজাতকটির জন্মের পর সনাতন পদ্ধতিতে হিট দেওয়া হয়। তবে আমরা যখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করি তখন শিশুটির পা ভালো ছিল। যেহেতু একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।’
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’