ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কাপড়ের দরদাম নিয়ে বাগবিতণ্ডা, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ২ যুবকের

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৫১, ২৬ এপ্রিল ২০২৩
কাপড়ের দরদাম নিয়ে বাগবিতণ্ডা, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ২ যুবকের
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় কাপড়ের দোকানে দর কষাকষিকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ভালাইপুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- আলমডাঙ্গা থানার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের আমজেদ হোসেনের ছেলে সজল ও একই গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মামুনুর রহমান। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ভালাইপুর বাজারের আশরাফুলের দোকানে কাপড় কিনতে গিয়ে দর কষাকষি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় ছামেনা খাতুন নামে এক নারীর। একপর্যায়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় ওই নারীকে। এ ঘটনা ছামেনা তার ছেলে টিপুকে জানান। পরে টিপু তার বন্ধু সজল, মামুনুর রহমান ও পলাশকে সঙ্গে নিয়ে ওই দোকানে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। 

Advertisement

সেখানে মীমাংসা করতে গিয়ে দোকান কর্মচারীর পক্ষে হুচুকপাড়ার গ্রামের আকাশ, সানোয়ার, শান্তি ও জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে টিপুর বন্ধু মামুন ও সজলকে ছুরিকাঘাত করেন তারা। এতে গুরুতর আহত হন মামুন ও সজল। পরে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে মামুন ও সজলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ভালাইপুর গ্রামের বাসিন্দা টিপু বলেন, বিকেলে আমার মা ছামেনা ভালাইপুর মোড়ের আশরাফুল গার্মেন্টস ও বস্ত্রালয়ে কাপড় কিনতে যান। কাপড়ের দাম জিজ্ঞাসা করলে ৮২ টাকা বলেন কর্মচারী ইমন। আমার মা ৮০ টাকায় কাপড়টি নিতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মচারীর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে কাপড় পরিমাপের স্কেল দিয়ে আমার মাকে আঘাত করেন ইমন। এমনকি আমার মাকে গালিগালাজ করে দোকান থেকে বের করে দেন তিনি। পরে সবার উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমিসহ আমার বন্ধু মামুন ও সজল ভালাইপুর বাজারে চা পান করতে যাই। এ সময় ইমন, সানোয়ার ও আকাশসহ কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাসানুজ্জামান জানান, নিহত দুই যুবকের পেটে ধারালোর অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সজল। মামুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়। তবে তার আগেই সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মাহাব্বুর রহমান জানান,  মরদেহ দুটি সদর হাসপতাল মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন বলেন, সদর উপজেলার ভালাইপুর এলাকায় একটি দোকানে কাপড় কেনা দিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্য দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহা‌তি‌তে প‌রিণত হ‌লে সজল ও মামুনুর রশিদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে দুজনই সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!