বৃহস্পতিবার দুপুরে নুর আলম ও আসাদুজ্জামান আসাদ নামে দুইজনের বিরুদ্ধে ভেজাল ওষুধ তৈরির অপরাধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান ইউএনও জান্নাত আরা ফেরদৌস।
এর আগে বুধবার লালমনিরহাট জেলা সদরের বড়বাড়ি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন একটি বাড়িতে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির গবাদিপশুর ভেজাল ওষুধ কারখানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাত আরা ফেরদৌস এ অভিযান চালায়।
.png)
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাত আরা ফেরদৌস জানান, সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ এলাকার আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘ দিন থেকে নুর আলমের বাড়িতে যৌথভাবে অনুমোদনহীন স্কয়ার ও একমিসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির লোগো লাগিয়ে গবাদিপশুর ভেজাল ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নুর আলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটের আগমন টের পেয়ে বাড়ির মালিক নুর আলম ও আসাদুজ্জামান আসাদ পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ গবাদি পশুর ভেজাল ওষুধ ও কেমিকেল উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কাউকে আটক করতে না পেলেও ভেজাল ওষুধ তৈরির কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার বাড়ির মালিক নুর আলম ও ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারী আসাদুজ্জামান আসাদ নামে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়বাড়ি এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের হাতুড়া এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলী, মিস্ত্রি কাজ করে কোনো রকম সংসার চালাতেন। তার দুই ছেলে নুর আলম ও মান্না বড়বাড়ি বাজারে মানুষের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে রাতারাতি হয়ে যান কোটিপতি। ভেজাল ওষুধ কারখানা, দেহ ব্যবসা, জুয়া, ক্যাসিনো, ভূমিদস্যু ইত্যাদি অপকর্মের সঙেগ্ জড়িয়ে দুই ভাই রাতারাতি হয়ে যান টাকা ওয়ালা। তাদের সহযোগিতায় সেই বাড়িতে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে আসছিল।
নুরআলম ও মান্নার অবৈধ সম্পদের যথাযথ হিসাব নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিও জানান তারা।
অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, সদর থানা পুলিশসহ শত শত উৎসুক জনতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে প্রায় বিশ লাখ টাকার ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়।