বান্দরবানে পাহাড়ের পাশ থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং
বান্দরবানে ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। জেলার ৭ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত বাসিন্দাদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনা খাবারও মজুদ রয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।
এছাড়াও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
মোখার প্রভাবে রোববার সকাল থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে আর এই বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোখা থেকে নিরাপদে অবস্থানের জন্য বান্দরবানের ৭ উপজেলায় ২০৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে আর জনগনকে নিরাপদে অবস্থানের আহবান জানিয়েছে প্রশাসন।
.png)
জেলা ত্রাণ ও পুণবার্সন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে এবং বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।
তিনি আরো জানান, বান্দরবান সদরে অস্থায়ী ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে যাতে ১৯ হাজার ৮০ জন, রুমা উপজেলায় ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে যাতে ৫১৫জন, রোয়াংছড়ি ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে যাতে ৪ হাজার ৫০০ জন, থানচি উপজেলায় ৬ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে যাতে ৬৪০ জন, লামা উপজেলায় ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে যাতে ১ হাজার ৪৯০ জন, আলীকদম উপজেলায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে যাতে ৩ হাজার ১৩০জন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে যাতে ১ হাজার ৪৫৭ জন ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুণবার্সন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার আরো জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন থেকে ৭টি উপজেলায় ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে এবং বর্তমানে জেলায় ত্রাণ কার্য (চাল) খাতে ৪১৬ দশমিক ৩১ মেট্রিক টন চাল ও ত্রাণ কার্য (নগদ) খাতে ৮ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।
এদিকে বান্দরবান পৌরসভার মেয়র সৌরভ দাশ জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় বান্দরবান পৌরসভা সজাগ রয়েছে এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হচ্ছে।