ঘরজামাই থাকতে না চাওয়ায় নির্যাতন: হাত-পা বেঁধে বিলে ফেললেন শ্বশুর
চার মাস আগে তাহমিনার সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আকাশকে নিজ বাড়িতে রেখে গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করিয়ে আসছিলেন শ্বশুর। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়ি ফিরতে চাইলে বাধা দেন শ্বশুর। একপর্যায়ে শনিবার আকাশ স্ত্রীকে নিয়ে আবারো নিজ বাড়ি যেতে চাইলে বাধা দেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ সময় তারা আকাশের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেন। এতে আকাশ নিস্তেজ হয়ে পড়লে বিলে ফেলে রেখে চলে যান তারা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।
ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার ফুলশ্বর গ্রামে। ভুক্তভোগী আকাশ মোল্যা সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আলতাফ মোল্যার ছেলে।
রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানা ওসি মো. ওবায়দুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার মাস আগে পার্শ্ববর্তী ফুলশ্বর গ্রামের লিকটন মোল্যার মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর তাকে নিজের বাড়িতে রেখে জমিজমার কাজসহ গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করিয়ে আসছিল। পরে আকাশ বিষয়টি বুঝতে পারলে স্ত্রী তহমিনাকে নিয়ে নিজেদের বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে বাধা দেন শ্বশুর। একপর্যায়ে শনিবার (১৯ আগস্ট) আকাশ স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়ি চলে আসতে চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আকাশের হাত-পা বেঁধে বিলের মধ্য ফেলে নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে সেখানে ফেলে রেখে চলে যান তারা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।
আকাশের মা ময়না বেগম জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে এক পথচারী গোঙ্গানির শব্দ শুনে আমার ছেলেকে উদ্ধার করেন। ঘরজামাই থাকতে না-চাওয়ায় আমার ছেলের হাত-পা বেঁধে বিলে ফেলে দিয়েছিছেন তার শ্বশুর।
ওসি মো. ওবায়দুর রহমান জানান, তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।