ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নীলফামারীর ২১ বিদ্যালয়ে আই কেয়ারের বিনামূল্যে ‘স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:০৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
নীলফামারীর ২১ বিদ্যালয়ে আই কেয়ারের বিনামূল্যে ‘স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম’
ছবি: সংগৃহীত

মানবিক সাহায্য সংস্থা’র আই কেয়ার প্রোগ্রামের (এমএসএস-ইসিপি) সহযোগিতায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম’ সম্পন্ন হয়েছে।

গত ৪-৫ জুন ও ১৭-২১ সেপ্টেম্বর দুই ধাপে সাতটি কেন্দ্রে মোট ১৮৯১ জন শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সেবা প্রদান করা হয়। ‘স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামে’ একজন শিক্ষার্থীর চোখে ছানি শনাক্ত হয় এবং ৪ জন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইসিপির সহযোগী হাসপাতালে রেফার করা হয়। এছাড়া ১০০ জন শিক্ষার্থীকে চশমা ও ১৮৩ জনকে ওষুধ প্রদান করা হয়।

চক্ষুসেবা প্রদানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে ৮১টি প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন আই কেয়ার প্রোগ্রামের প্রতিনিধিরা। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করা হয়।

Advertisement

নীলফামারীর ২১ বিদ্যালয়ে আই কেয়ারের বিনামূল্যে ‘স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম’

চক্ষুসেবা গ্রহণ করে খগা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের মুক্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র রিসাদ বলেন, ক্লাস চলাকালীন বোর্ডের লেখা বুঝতে আমার খুবই সমস্যা হতো। তারা আমাকে একটি চশমা দিয়েছে, যার মাধ্যমে আমি এখন খুব সহজেই দূরের লেখা পড়তে পারি।

আই কেয়ার প্রোগ্রামের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে একজন অভিভাবক বলেন, চোখ পরীক্ষার এত আধুনিক যন্ত্রপাতি আমি কখনোই দেখিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমার মেয়ের চোখে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে অথচ আমরা জানতামই না। আমার মেয়েকে তারা চশমা এবং কিছু ওষুধ দিয়েছে। আমি তাদের এমন কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

নীলফামারীর ২১ বিদ্যালয়ে আই কেয়ারের বিনামূল্যে ‘স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম’

‘দারিদ্র্যের কারণে কেউ আর অন্ধ থাকবে না’ এ প্রতয়ে মানবিক সাহায্য সংস্থার আই কেয়ার প্রোগ্রাম ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব দূরীকরণে অব্যাহত কাজ করে যাচ্ছে। মানবিক সাহায্য সংস্থার আই কেয়ার প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য হলো- সুবিধাবঞ্চিত মানুষের নিরাময়যোগ্য অন্ধত্ব বিনামূল্যে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ, চক্ষু স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষাদান, সক্ষমতা ও চক্ষুসেবা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা।

এমএসএস’র প্রেসিডেন্ট ফিরোজ এম হাসান বলেন, চক্ষুসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে ইসিপি-এমএসএস দেশজুড়ে সংস্থার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে, যেন সরাসরি তাদের কাছে চক্ষুসেবার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়।

আই কেয়ার প্রোগ্রাম জুলাই ২০১৪ থেকে আগস্ট ২০২৩ পর্যন্ত গ্রামাঞ্চল, প্রত্যন্ত অঞ্চল, জেলা, উপজেলায় ৩৯৩টি চক্ষু চিকিৎসা শিবির বাস্তবায়ন করেছে। এতে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!