বিয়ে করতে বলায় অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা
সাত মাস আগে ইসমাইলের সঙ্গে পরিচয় হয় রাবেয়ার। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হন তারা। এতে অন্তঃসত্ত্বা হন রাবেয়া। বিষয়টি প্রেমিক ইসমাইলকে জানিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেন। বিয়ে না করলে মামলার হুমকি দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীদের নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাবেয়াকে হত্যা করেন ইসমাইল। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। এ ঘটনায় প্রেমিক ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হত্যার দায় স্বীকার করেন গ্রেফতারকৃতরা। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক স্বরণিকা পাল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাবুপুর গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মো. ইসমাইল ও একই এলাকার মৃত অয়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. আজাহার। নিহত রাবেয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ গ্রামের মৃত মঞ্জু মিয়ার মেয়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক ঝুটন কুমার বর্মণ।
জেলা ডিবি পুলিশের ওসি ফারুক হোসেন জানান, স্বামী পরিত্যক্তা রাবেয়া। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় মানুষের বাসায় কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, প্রায় সাত মাস আগে গফরগাঁওয়ের একজনের মাধ্যমে ইসমাইলের সঙ্গে পরিচয় হয় রাবেয়ার। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সম্পর্ক। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হন তারা। সম্প্রতি রাবেয়া তাকে বিয়ে করার জন্য ইসমাইলকে চাপ দেন। বিয়ে না করলে ইসমাইলের বিরুদ্ধে থানায় মামলার হুমকি দেন। মামলার ভয়ে ইসমাইল আতঙ্কিত ছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাবেয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফোন দিয়ে গফরগাঁও আসতে বলেন। ইসমাইলের কথামতো বাবেয়া টঙ্গী থেকে ট্রেনযোগে গফরগাঁও আসেন।
এরপর গফরগাঁও রেলস্টেশনে ইসমাইল, আজাহার ও রফিক রাবেয়ার সঙ্গে দেখা করেন। দেখা করার পর তারা ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথে ধলা বাজারে হোটেলে চারজন খাওয়া-দাওয়া করেন। একপর্যায়ে রাবেয়া ইসমাইলকে জানান তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তিনি বলেন, তুমি আমাকে বিয়ে করো। না হলে আমি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করবো। পরে রাবেয়াকে বিয়ে করবেন বলে ত্রিশাল চকরামপুর এলাকার উদ্দেশ্যে অটোরিকশায় রওয়ানা দেন তারা। ওইদিন রাত ১০টার দিকে ইসমাইল ও তার সহযোগীরা রাবেয়ার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বাঁশঝাড়ে রেখে চলে যান।
ঘটনার দুইদিন পর বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) মরদেহ দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ধনু মিয়া বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা করেন। পরে নিজ বাড়ি থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।