‘আপত্তিকর’ অবস্থায় দেখেই বন্ধু ও স্ত্রীকে খুন করেন ইবরাহিম
লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরলক্ষ্মী গ্রামের বেলাল মাঝির ছেলে ইউসুফ আর ইবরাহিম একসঙ্গে ফেনীর একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এতে প্রায়ই ইউসুফ তার বাড়িতে যেতেন। একপর্যায়ে ইবরাহিমের স্ত্রী রিনার সঙ্গে ইউসুফের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালের ৩ জুন ইফতারের সময় ইউসুফ ওই বাড়ি যান। সেদিন ইবরাহিম ফেনী থেকে বাড়ি এসে রিনা ও ইউসুফকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুজনকেই ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইবরাহিম। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ইবরাহিমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আদালত।
মঙ্গলবার ভোরে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইবরাহিম খলিলকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার তকিরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতারকৃত ইবরাহিম রামগতি উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
র্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান বলেন, জোড়া খুনের ঘটনা ইবরাহিমের আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাকে রামগতি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
.png)
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বলেন, পরকীয়া প্রেমিক ইউসুফসহ স্ত্রী রিনাকে হত্যা করেন ইবরাহিম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রামগতির চরলক্ষ্মী গ্রামের বেলাল মাঝির ছেলে ইউসুফ আর ইবরাহিম একসঙ্গে ফেনীর একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এতে প্রায়ই ইউসুফ তার বাড়িতে যেতেন। একপর্যায়ে ইবরাহিমের স্ত্রী রিনার সঙ্গে ইউসুফের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালের ৩ জুন ইফতারের সময় ইউসুফ ওই বাড়ি যান। সেদিন ইবরাহিম ফেনী থেকে বাড়ি এসে রিনা ও ইউসুফকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুজনকেই ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইবরাহিম।
ইউসুফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তছলিমা বেগম বাদী হয়ে রামগতি থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে আহত অবস্থায় রিনাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৬ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিনা। এ ঘটনায় নোয়াখালীর সুধারাম থানায় একটি জিডি করেন রিনার মা জানু বেগম।
এদিকে হত্যা দুটি একই ঘটনা হওয়ায় ১১ জুন মামলাটি রামগতি থানার মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ১২ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগতি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মদ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ইবরাহিমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আদালত।