নদীতে শিকার করা মাছ বিক্রি করে ধারদেনা পরিশোধের আশায় রয়েছেন জেলেরা। তাই দীর্ঘ ২২ দিন নীরব থাকা মাছ ঘাটগুলোও পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলে, আড়তদার ও পাইকারদের পদচারণায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে মাছ শিকারের জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতদিন ঘাটে বেঁধে রাখা নৌকাগুলো মেরামত করছেন জেলেরা। আবার কেউ কেউ জাল বোনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি ঘাটেই নদীতে নামার জন্য জেলেদের প্রস্তুতি চলছে।
.png)
অন্যদিকে, আড়তদাররাও তাদের আড়তগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘ ২২ দিন বেকার সময় কাটিয়ে নতুন উদ্যমে ইলিশ শিকার ও বিক্রিতে মেতে উঠবেন তারা।
চরবংশী ইউনিয়নের জেলে মো. খোকন মাঝি জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে জেলে পেশায় আছেন। ২২ দিনের অভিযানে ১৫ হাজার টাকার মতো ঋণ করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ শিকার করে এ ঋণ পরিশোধ করবেন।
চরলক্ষী গ্রামের জেলে মো. জহির মাঝি জানান, ২২ দিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ও তার নৌকার আট জেলে নদীতে মাছ শিকারে যাননি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ, তাই তিনি নৌকা মেরামত করছেন। রাত ১২টা বাজলেই নদীতে মাছ শিকারে যাবেন তারা।
উপজেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি মোস্তফা মাঝি জানান, সরকার অভিযান দেওয়ায় আমাদের নিবন্ধিত জেলেরা নদীতে নামেননি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু জেলে প্রভাবশালী লোকদের ছত্রচ্ছায়ায় নদীতে মাছ শিকার করেছেন। আবার অভিযান শেষে এই চক্রটিই বিভিন্ন অবৈধ বেড় জাল, পাই জাল, বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছের রেণু ধ্বংস করে। এদের এ অবৈধ জাল বন্ধ না করা হলে অভিযানে কোনো লাভ হবে না।
আলতাফ মাস্টারের মাছ ঘাটের আড়তদার মো. জয়নাল জানান, এতদিন অভিযান থাকায় মাছের আড়ত বন্ধ ছিল। অভিযান উঠে যাওয়ায় জেলেরা নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর তারাও মাছ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করছেন, কাঙ্ক্ষিত মাছ পেলে গত ২২ দিনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে আর বাধা নেই। জেলেরা উৎসবের আমেজে নদীতে মাছ ধরবেন। এ বছর মা ইলিশের অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে দাবি করেন এ কর্মকর্তা।