ঝালকাঠির ৪৭১ গ্রামে সুপারির বাম্পার ফলন
সবুজ মাঠ গাছ-গাছালী, নদী-নালা, খাল-বিল, অপার সৌন্দর্য্যমন্ডিত ৭০৬ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পরিপাটি জেলা ঝালকাঠি। জেলার ৪টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ৪৭১টি গ্রামে সুপারি গাছ ও বাগান রয়েছে। প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার সুপারি ক্রয়-বিক্রয় হয় এ জেলায়।
দেশের সুপারি অঞ্চলখ্যাত ঝালকাঠিতে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বেচাকেনায় ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। সারা দেশে সরবরাহের পাশাপাশি রফতানিও হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।
জানা গেছে, জেলার ৪৭১টি গ্রামের মধ্যে রাজাপুরের ৫৪টি গ্রামে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। এমনকি বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। সুপারি কিনতে দূর-দূরান্তের পাইকাররা এখন স্থানীয় বাজারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঝালকাঠির সুপারি ভারত, চীন, থাইল্যান্ডে রফতানি হয়। যশোর ও বেনাপোলের কিছু ব্যবসায়ী ঝালকাঠি থেকে সুপারি কিনে তা ভারতে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চীন ও থাইল্যান্ডে রফতানি করেন।
সরেজমিন সদর উপজেলার ছত্রকান্দা হাটে সুপারী কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। এছাড়াও রাজাপুরের বাদুরতলা, সাতুরিয়ার লেববুনিয়াসহ জেলার ৮৯টি সাপ্তাহিক হাটে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে ভিড় জমাচ্ছে শত শত কৃষক ও পাইকার। কেনাবেচা হচ্ছে কোটি টাকার সুপারি।
জানা গেছে, এ বছর রাজাপুর উপজেলার ৫৪টি গ্রামের ৩০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সুপারির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকে আবার বাড়ির পাশে সুপারিগাছ লাগিয়েও ভালো ফলন পেয়েছেন। গত এক যুগের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে বলে দাবি করছে কৃষি বিভাগ।
বাজারগুলোতে স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী প্রতি কুড়ি (২১০ সুপারিতে এক কুড়ি) সুপারি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রাজাপুরের সুপারির সুখ্যাতি থাকায় পাইকারদের হাত ঘুরে বড় জাতের সুপারি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।
রাজাপুরের চাড়াখালী এলাকার সুপারির বাগান মালিক কিসমত ফরাজী বলেন, ‘গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর ফলন হয়েছে তিন গুণ। আর সুপারির আকারও হয়েছে অনেক বড়। এ বছর আমি লক্ষাধিক টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’
একই গ্রামের রাসেল বেপারী বলেন, ‘আমার দুই একর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। এ বছর বৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। কোনো পোকার আক্রমণও নেই। এরই মধ্যে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছি।

রাজাপুরের বাঘরি বাজারে ভ্যানগাড়িতে করে সুপারি নিয়ে আসা মো. হাসান জানান, এক ভ্যানগাড়ি সুপারি এক হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এগুলো পাইকাররা কিনে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি করে।
চট্রগ্রাম থেকে সুপারি কিনতে আসা পাইকার গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা এখান থেকে সুপারি কিনে ট্রাকযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে আড়তে সুপারির আকার নির্ধারণ করে বড় সাইজগুলো বিদেশে রফতনির জন্য মজুদ করি এবং অন্য সুপারিগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান করছি।
ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলা (ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া) ও এ জেলায় ২টি পৌরসভা (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) রয়েছে। এ জেলায় ৪টি থানার ৩২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ঝালকাঠি সদর, ৬টি কাঠালিয়া, ১০টি নলছিটি ও ৬টি রাজাপুরে অবস্থিত। এছাড়া ৪৭১টি গ্রাম, ৪১২টি মৌজা, ৩১টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ ৮৯টি হাট-বাজারের সম্মিলন রয়েছে এ জেলায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বছর আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সুপারি চাষের অনুকূল হওয়ায় এ অঞ্চলে সুপারির ফলন অত্যধিক ভালো হয়েছে, যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরো উৎসাহী হচ্ছে। সুপারিবাগান মালিকরা প্রতিবছরই সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। সুপারির ফলন বেশি হওয়ায় বাজার দর একটু কম আছে। জেলায় চলতি মৌসুমে ৭০০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। লাভজনক বিধায় এ ফসলটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।