ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৭ নভেম্বর ২০২৩
শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক
শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে যথাসময়ে মানসম্পন্ন বীজ ও সার পৌঁছে দিয়েছে। যার ফলে কৃষকদের জমি চাষাবাদে উৎসাহ বাড়ছে। 

এমন সুযোগ সুবিধা পেয়ে শীতকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে চলছে রবি মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষ। পরিচর্যা বীজ বপন কীটনাশক ওষুধ ছিটাতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। বাড়তি লাভের আশায় আগে ভাগেই সব ধরনের সবজি চাষ করেন তারা। শীতের শুরুতেই এসব সবজি বাজারে উঠবে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

জেলার দক্ষিণাঞ্চলের রামগতি, কমলনগর ও সদরের ভবানীগঞ্জ এলাকায় চলছে সবজি চাষাবাদ। এসব শীতকালীন সবজি নিয়ে জেলার কৃষকদের বিভিন্ন কর্মব্যস্ততা রয়েছে। বীজ বপনের পাশাপাশি সবজি চারা লাগিয়েছেন অনেকে। অনেকেই ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। কেউবা জমির আগাছা পরিচর্যা করছেন। কেউ কেউ আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। 

Advertisement

ভবানীগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টমেটো খেতে লাগানো হচ্ছে ঝাড়। দেয়া হচ্ছে কীটনাশক ওষুধ। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কৃষি কাজে তৎপরতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করছেন। দৈনিক হাজিরায় কাজ করছেন তারা। একেকজন দৈনিক ৫শ থেকে ৬শ টাকা পেয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে কিছুদিন পর ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, মুলা, করলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া,  ঢেঁড়শ, গাজর, পটল, বেগুন, শিম, টমেটো, লাল ও পালং শাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজিতে ভরে আছে মাঠ। তবে কোথাও কোথাও শীতকালীন সবজিতে মাঠে সবুজের সমারোহ বিরাজ করছে। এসব সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। 

জেলায় সবচেয়ে বড় সবজির হাট সদর উপজেলা পেয়ারপুর বাজার। সেখান সব ধরনের সবজি উঠানো হয়। বেপারী সেখান থেকে ক্রয় করে বিভিন্ন হাট বাজার গিয়ে বিক্রি করে।

প্রতিবছর রবি মৌসুমের শীতকালীন সবজি চাষ করে কম-বেশি লাভবান হওয়া যায়। সবচেয়ে সবজি চাষাবাদ হয় সদরের ভবানীগঞ্জ, পেয়ারাপুর, টুমচর, কালীরচর, চররমনী মোহন। এছাড়া রামাগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন স্থানে শত শত একর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়ে থাকে। বিগত সময়ে তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভবানের আশা করে এখানকার কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গ্রামগুলোর উৎপাদিত শাক-সবজি জেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চালান হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের সবজির কদর সারাদেশেই আছে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার অনেকটাই কম থাকায় গুণগত মানে সেরা হওয়ায় চাহিদাও অনেক বেশি।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. জাকির হোসেন বলেন, এবার শীতকালীন শাক-সবজিসহ সব রকমের ফসলের ভালো ফলন হবে। প্রান্তিক চাষিদের মাঝে শীতের শাক-সবজির মানসম্পন্ন বীজ এবং সার দেওয়া হয়েছে। আশা করি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ এবং উৎপাদন হবে। কেননা কৃষকদের প্রণোদনা ও পরামর্শসহ নানাভাবে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ। কৃষি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো মজবুত করছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!