রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪ টার দিকে প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদিয়ার পূর্ব-দক্ষিণে বাংলাদেশের জলসীমানায় বঙ্গোপসাগরের ‘মৌলভীর শীল’ এলাকায় মাছগুলো জেলেদের জালে ধরা পড়ে।
মৎস্য বিভাগের দাবি, টেকনাফের স্থানীয় একটি ট্রলারে ধরা পড়া ৩২০পিস জায়ান্ট কিংফিশ বা উলুয়া মাছ। তবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এটি ‘নাগুমাছ’ নামে পরিচিত। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম-Caranx ignobilis। ইংরেজি নাম-Giant trevally।
.png)
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ কায়ুকখালীয়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল জলিল ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম।
মাছগুলো ধরা পড়েছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মালিকাধীন এমভি দেলোয়ার নামের একটি ট্রলারে। পরে তারা মাছগুলো প্রতিকেজি ৪৫০ টাকা দামে বিক্রি করেছেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে।
ফিশিং ট্রলার এমভি দেলোয়ার মাঝি বলেন, রোববার দুপুর ১২টার দিকে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদিয়ার পূর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের ‘মৌলভীর শীল’ এলাকায় তারা জাল ফেলেন। কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে জালে মাছের ঝাঁক আটকা পড়লে সাগরের পানি নড়াচড়া করতে দেখেন। জেলেরা বুঝতে পারেন, জালে মাছের বড় ঝাঁক আটকা পড়েছে। তখন আশপাশের জেলেদের খবর দিয়ে জাল টানা শুরু করলে নাগুমাছের ঝাঁক উঠে আসে। প্রতিটি মাছের ওজন ৮ থেকে ১৭ কেজি পর্যন্ত। সেখান ট্রলার মালিককে বিষয়টি জানানো হয়। রাত ৯টার দিকে মাছ নিয়ে টেকনাফের কায়ুকখালীয়া ফিশারিজ ঘাটে আসেন।
মাছগুলো এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমান স্থানীয়রা। পরে ট্রলার থেকে ঝুঁড়িভর্তি করে ট্রলার থেকে মাছগুলো ছৈয়দ আলমের ফিসারিজ ঘাটে মাছগুলো গুনগতমান ভালো রাখতে বরফ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বড় বড় প্লাস্টিকের ঝুড়িভর্তি করে ট্রলার থেকে মাছ খালাস করে স্তূপ করেন। কেউ কেউ ওজনযন্ত্রে মাছ তুলে পরিমাপ করছেন। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বরফের গুড়া এনে মাছের ওপর বিলিয়ে দিচ্ছেন। মাছগুলো একনজর দেখতে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। পরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী জামাল হোসেনসহ আরো অনেকে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে কিছুসংখ্যক মাছ কিনে নেন।
মাছ ব্যবসায়ী ছৈয়দ আলম ও মোহাম্মদ সাইফুল বলেন, তারা কয়েকজন মিলে প্রায় ২৬৫পিস (তিনটন) মাছ কিনে নিয়েছেন।এসব মাছ তারা ঢাকা-চট্টগ্রামে সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে আকারভেদে প্রতিকেজি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করবেন। এ মাছের কদর রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রামের হাট বাজারগুলোতে।
টেকনাফের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি অবশ্যই সুখবর। সরকারি বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা মানায় বর্তমানে জেলেদের জালে ছোট-বড় প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে। মাছগুলো চট্টগ্রাম-ঢাকায় নিয়ে বিক্রয় করতে পারলে আরো ভালো দাম পাওয়া যেত।