ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে মানুষের ঢল

রনজিনা খানম, নড়াইল 
প্রকাশিত: ১৫:৪১, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে মানুষের ঢল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হলো আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।  

লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে জড়ো হয়েছিলো লাখো মানুষ। করোনা ও রোজার কারণো চার বছর বন্ধ থাকার পর এ বছর ঘোড়দৌড় ও গ্রামীাণ মেলা মানুষের মাঝে যেন অন্যরকম উৎসব-আমেজে পরিণত হয়। গত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে এ উৎসব চলে বুধবার ভোর রাত পর্যন্ত।

ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে মানুষের ঢল।আয়োজকরা জানান, সম্রাট আকবরের আমল থেকে ব্রাহ্মণডাঙ্গায় বৈশাখী মেলা ও ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন চলে আসছে। বংশ পরম্পরায় এ আয়োজন যেন ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামের অন্যরকম উৎসবে রূপ নিয়েছে। ধর্মীয় উৎসবে আত্মীয় স্বজনের আগমন না ঘটলেও মেলায় প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের আগমনে এলাকার ৪টি গ্রামে উৎসব ছড়িয়ে পড়ে। এবছর দুদিনব্যাপী মেলার শেষদিনে ১৬ এপ্রিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। 

Advertisement

ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে মানুষের ঢলপ্রতিযোগিতায় নড়াইল, যশোর, খুলনা. মাগুরা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ২২টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম খুলনার বটিয়াঘাটার ঘোড়া, দ্বিতীয় হয়েছে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুরের ঘোড়া ও তৃতীয় হয়েছে লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের ঘোড়া। বিজয়ী ঘোড়ার মালিকদের নগদ অর্থ দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিযোগিতা দেখতে আসেন নারী, পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ।

ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে মানুষের ঢল।মেলায় নড়াইলসহ আশেপাশের জেলা থেকেও নানা বয়সী মানুষ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে এসেছেন। এমন আয়োজন দেখতে পেরে খুশি এসব দর্শনার্থীরা। 

দর্শনার্থী রাসেল হুসাইন বলেন, ব্রাহ্মণডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা অনেক জামজমকভাবে হয়ে থাকে। সেই খবর শুনে নড়াইলের দক্ষিণপ্রান্তের শেষ সীমানা থেকে এসেছি। মেলা দেখতে এসে অভিভূত। এতো বড় মেলা খুলনা বিভাগের অন্য কোথাও হয় বলে আমার জানা নেই। লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে।  প্রতিবছর এমন আয়োজনের অনুরোধ রইল।

দর্শনার্থী জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে এসেছেন নড়াগাতী থেকে। লোকজ সংস্কৃতির ধারক হিসেবে এই মেলাটি যাতে আগামীতে টিকে থাকে এই দাবি জানাই। কেননা বর্তমানে আমরা আকাশ সংস্কৃতি, ফেসবুক ও ইউটিউব নিয়ে পড়ে আছি। গ্রামীণ এসব মেলার মাধ্যমে আমরা প্রকৃত আনন্দ পেতে পারি। এসব মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সরকারী সহযোগিতা পেলে আরো প্রাণবন্ত মেলায় রূপ নিতে পারে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. তাইজুল ইসলাম জানান, পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে বর্তমান প্রজন্ম সম্মিলিতভাবে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। আগামীতে পরিধি বাড়াতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানালেন তিনি।

দুদিনব্যাপী এ মেলায় ঐতিহ্যবাহী পালগানের আসরসহ গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। মেলায় হস্তশিল্প, বেতশিল্প, কুঠির শিল্পসহ দুই হাজার দোকানী পসরা সাজিয়ে বসে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: নড়াইল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!