ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এক টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করেছেন চাষিরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
এক টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করেছেন চাষিরা
এক টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করেছেন চাষিরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রীস্মকালের পাশাপাশি রমজান মাস থাকায় বাজারে গত কয়েখদিন আগেও শসার চাহিদা ছিল বেশি। পাশাপাশি দামও ছিল চড়া। ওই চিত্র ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বহাল থাকলেও ঈদের পরই পাল্টে গেছে বাজারের চিত্র। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় কমতে কমতে একেবারে তলানীতে এসে থেমেছে শসার দাম। 

মঙ্গলবার দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলায় মাত্র এক টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করেছেন চাষিরা। ফলে  শসা উৎপাদন করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকার  শসাচাষিরা। এতে করে লোকসানে পড়েছেন তারা। 

শসাচাষিদের অভিযোগ, ঈদের আগে বাজারে শসার দাম ভালো থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে দাম কমতে শুরু করে। রমজানের শুরুতে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করলেও গত কয়েকদিন ধরে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসার দাম এক থেকে দেড় টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা কেজি দরে। এতে লাভের আশায় শসা চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। 

Advertisement

জেলার খানসামা উপজেলা ভাবকি ইউনিয়নের কাচিনীয়া গ্রামের কৃষক সাকিব ইসলাম জানান, কষ্টে উৎপাদিত ৫০ কেজির শসার এক বস্তা শসা মাত্র ৫০ টাকায় বিক্রি করতে কষ্টে আমাদের বুক ফেটে যাচ্ছে। শসার ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারে দাম না থাকায় খরচের টাকাও আমরা তুলতে পারছি না। শসা গাছ থেকে তুলে বাজারে আনতে যে খরচ সে টাকাই উঠছে না। 

একই এলাকার কৃষক এনামুল হক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সবজির দাম চড়া থাকায় বড় আশা করে শসা চাষ করেছিলাম, কিন্তু এক টাকা কেজি দরে শসা বিক্রি করতে দেখে চোখে পানি ঝরছে। এক বিঘা জমিতে শসা চাষ করতে খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আশা ছিল শসার ফলন ভালো হয়েছে, ভালো লাভ হবে, রমজান মাসে শসার দাম ভালো ছিলো রমজান শেষে দাম নেই, শসা কিনতে চায় না পাইকাররা। এখন লাভ তো দূরে থাক, উল্টো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। শসা চাষ করে লাভের পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকা লস হয়েছে আমার। 

পাইকারি ব্যবসায়ী আরিফুল হক জানান, বাজারে শসার ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। চাহিদা কম থাকায় এবং সরবরাহ অত্যাধিক থাকায় শসার দাম নেই বললেই চলে। আজ ১ টাকা কেজি দরে শসা কিনেছি। 

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, এ বছর খানসামা উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে শসার চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত অর্ধেক জমির ফসল তোলা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে বাজারে শসার সরবরাহ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় বাজারে শসার দাম কমে গেছে। এতে করে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!