অবিস্মরণীয়: ডাবল সেঞ্চুরি এক দিনে দুই মহাতারকার
এক অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ৯১/৭ থেকে ২৯৩/৭ এবং ১৮৪/৭ থেকে ৩৮৬/৯- দুটি স্কোর! দল যখন বিপদে, খাদের কিনারায়, তখন কোনো ব্যাটারের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের কারণেই এমন স্কোরের দেখা মেলে।
ঠিক তাই হয়েছে, সময়ের হিসাবে দুটো স্কোরের ব্যবধান ঠিক তিন বছরের। ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে সম্ভবত এই ফরম্যাটের সেরা ইনিংস দেখেছিল বিশ্ব। মুম্বাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ক্রিজে যখন নামেন, তখন নবম ওভারে দলের স্কোর ৪ উইকেটে ৪৯। আরও ১০ ওভার পর ব্যাটিং ধসের দৃষ্টান্ত তৈরি করে রান ৭ উইকেটে ৯১।
ম্যাক্সওয়েল তখন ২৬ বলে ২২ রানে অপরাজিত। কিন্তু সেখান থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে তুলে দিলেন সেমিফাইনালে, যে ইনিংসকে অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে। প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে পুরুষ ওয়ানডেতে ১২৮ বলে ওয়ানডেতে ডাবল হান্ড্রেড মারলেন এবং সব ক্রিকেট মিলে ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে প্রথম দ্বিশতক।
শুধু সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করলে ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসকে ছোট করা হবে। ব্যাটিংয়ের সময় ক্র্যাম্পে ভুগছিলেন তিনি, একবার তো দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে মাটিতে পড়েই গেলেন। তারপর পায়ের কোনো মুভমেন্ট না করেই পরবর্তী ৫৪ রান তুলে নেন ২৯ বলে। প্যাট কামিন্সের সঙ্গে ২০২ রানের জুটিতে তারই অবদান ১৭৯ রানের। ৪৭তম ওভারে দুটি ছয় ও চার মারেন তিনি মুজিব উর রহমানকে। জয়ের জন্য ও ডাবল সেঞ্চুরি করতে পাঁচ রান প্রয়োজন ছিল, মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে দুটোই পূরণ করেন।
সেই দিনটিকেই যেন মনে করিয়ে দিলেন বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের কেবল চতুর্থ টেস্ট খেলতে নেমে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ব্যাটিং শেখালেন তিনি। শুধু তাই নয়, চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে দেখলেন অন্যদের আসা যাওয়া।
সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২২ রানে ২ উইকেট পতনের পর মাঠে নামেন হৃদয়। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তার ৭৩ রানের জুটি ভাঙতেই ধসের মুখে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজদের ব্যর্থতার পর স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৭৪।
প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করা উইন্ডিজ তখন বড় লিড নেওয়ার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু তাদের চিন্তাধারা ঘুরিয়ে দিলেন হৃদয়। সাদমান ইসলামের ইনজুরিতে ১০ জন নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে লিড এনে দিয়েছেন তিনি কয়েকটি রেকর্ড ভেঙে।
অষ্টম উইকেটে লেজের ব্যাটার তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১৬৭ বলে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়, যাতে তিনি একাই ৯২ রান করেন। ততক্ষণে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক ছুঁয়ে দেড়শ পার করেছেন।
এই জুটি ভাঙার পর তাসকিন ব্যাটিং প্রান্তে আসেন। হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। একপ্রান্ত ধরে রেখে হৃদয় চার-ছক্কায় গ্যালারি মাতান। দুইশ যখন ছুঁইছুঁই, তখনও চাপ ধরে রেখে সাবলীল ব্যাটিং করেন হৃদয়। অবশেষে মুশফিক, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন ৩০৪ বলে।
তারপর চার-ছক্কা মেরে বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও খেলে ফেলেন হৃদয়। মুশফিকের ২১৯ রান পেছনে পড়ে যায়। হৃদয়ের মহাকাব্যিক ইনিংস থামতে হয় তাসকিনের বিদায়ে।