ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

মিসাইলের রেঞ্জ সীমা তুলে নিল ইরান, বাড়ছে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:৪০, ৭ নভেম্বর ২০২৬
মিসাইলের রেঞ্জ সীমা তুলে নিল ইরান, বাড়ছে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা
ছবি সংগৃহীত

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমিত রাখার স্বঘোষিত নীতি থেকে সরে এসেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের দূরত্বের ক্ষেত্রে আর ওই সীমাবদ্ধতা মানা হবে না। এর ফলে আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথ খুলতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। তবে ইরানের হাতে বর্তমানে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দিষ্ট পাল্লা কিংবা এ বিষয়ে কোনো সময়সীমাও জানাননি এই কর্মকর্তা। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কয়েক দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে কোনো ধরনের হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই জবাব দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যের পরই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে আইআরজিসির নতুন ঘোষণা এলো। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

এত দিন ইরান নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে রাখার নীতি অনুসরণের কথা বলে আসছিল। এই দূরত্বের মধ্যে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশ, আরব উপদ্বীপ, মিসরের বড় অংশ এবং গ্রিস ও বলকান অঞ্চলের কিছু এলাকা রয়েছে। পাল্লা আরও বাড়ানো হলে ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চল ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসতে পারে।

তবে ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। চলতি বছরের মার্চে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর প্রকাশিত হয়। ইরান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। তবে ঘটনাটি সত্য হলে ইরানের ঘোষিত দুই হাজার কিলোমিটারের সীমার চেয়ে বেশি দূরত্বে আঘাত হানার সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্বেগ, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও কাজে লাগতে পারে। তবে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর প্রযুক্তি থাকলেই কার্যকর আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সম্ভব—এমন নয়। এর জন্য উন্নত প্রযুক্তি, নির্ভুল নির্দেশনা ও পুনঃপ্রবেশ সক্ষমতাসহ বেশ কিছু জটিল সামরিক প্রযুক্তি প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমা তুলে নেওয়ার ঘোষণা ইরানের সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তবে ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবে দেশটি কত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করতে পারে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!