ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেই শিক্ষকের বিকৃত মানসিকতায় হতবাক সহকর্মীরাও!

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০৩, ২৩ মে ২০২৪
সেই শিক্ষকের বিকৃত মানসিকতায় হতবাক সহকর্মীরাও!
গ্রেফতারকৃত আবদুল ওয়াকেল ওরফে রাসেল

৩০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাজশাহী নগরীর একটি ব্যক্তিগত স্কুলের আবদুল ওয়াকেল ওরফে রাসেল নামে এক শিক্ষকের বিকৃত যৌনাচার দ্বিধায় ফেলেছে সহকর্মী ও অধিকারকর্মীসহ অভিভাবকদের! সহকর্মী শিক্ষকরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, এতো ভালো আচরণের শিক্ষকের দ্বারা এতো বড় অপরাধ কিভাবে সম্ভব! এ কারণে মামলা করা নিয়েও ছিলেন বিভ্রান্তিতে। তবে নিজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সিআইডির পরামর্শে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে অধিকারকর্মীরা বলছেন, অনেক বড় ও সিরিয়াল অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের বাইরের রুপ দেখে চেনা কষ্টসাধ্য বিষয়।

গত ২১ মে দুপুরে নগরীর কাটাখালী বাজার সংলগ্ন আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলে খোঁজ নিলে সহকর্মীরা জানান, স্কুলে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল ওয়াকেল ওরফে রাসেলের আচরণ নিয়ে কেউ কখনো সন্দেহজনক কিছু পাননি। তিনি সবার সঙ্গে অমায়িক সম্পর্ক রাখতেন। এ কারণে প্রথম যখন তারা সহকর্মীর এমন বিকৃত যৌনাচারের বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তারা হতবাক হয়ে পড়েন।

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলটির এক শিক্ষক জানান, তাকে তিনি দুই বছর ধরে দেখছেন। যদিও প্রত্যেক মানুষের একটা ব্যক্তি জীবন থাকে। নিজ জীবনে তিনি কেমন, সেটা বলতে পারবেন না। তবে স্কুলের সহকর্মী হিসেবে তার কাছ থেকে কখনো বাজে কথাও শুনেননি তারা। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তারা।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক (মামলার বাদী) জানান, সিআইডির সদস্যরা শিক্ষক রাসেলকে গ্রেফতার করে তার কাছে নিয়ে এসে অপরাধ সম্পর্কে জানান। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি এমনটা করে থাকে, তাহলে অবশ্যই অপরাধ করেছে। তাকে আইনের আওতায় এনে যা করার আপনারা করতে পারেন।

তিনি আরো জানান, যাদের নিয়ে অভিযোগ তারা এই স্কুলের শিক্ষার্থী নয়। ঘটনাস্থলও এখানে না। যতটুকু জেনেছি, করোনাকালে তালাইমারীতে আমেনা ক্লিনিকের পাশে আইসিটির একটি কোচিংয়ে শিক্ষক থাকাকালে তিনি এসব ঘটিয়েছেন।

মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি সিআইডির সদস্যরা তাকে বলেছিলেন। সে যেহেতু তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছিল, শিক্ষক হয়ে তার এমন কাজ সবার খারাপ লেগেছে। এজন্য সিআইডির সদস্যরা বলেছিলেন একজনকে তো শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তাই তিনি মামলার বাদী হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্যে রাজশাহীতে ১০ বছরের কম বয়সী ৩০ জন স্কুলছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আবদুল ওয়াকেল নামে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে সিআইডি। গত শনিবার রাজশাহী নগরীর ডাঁশমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওয়াকেল রাজশাহীর কাটাখালী এলাকার আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের শিক্ষক।

সিআইডি বলছে, যৌন নির্যাতনের দৃশ্যগুলো ওই শিক্ষক ভিডিও ধারণ করে নিজের মোবাইল, পেনড্রাইভ, কম্পিউটার এবং এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করতেন। এসব ডিজিটাল ডিভাইস থেকে সার্চ ইঞ্জিন গুগল, মাইক্রোসফট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এসব তথ্য পৌঁছে দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড অ্যাক্সপ্লয়েট চিলড্রেন (এনসিএমইসি) নামে এক প্রতিষ্ঠানের কাছে। এনসিএমইসি বাংলাদেশে সিআইডিকে এসব তথ্য সরবরাহ করে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াকেল স্নাতক পড়ার সময় থেকেই ছেলে শিশুদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের কথা স্বীকার করেছে। মূলত সে উদ্দেশে কোচিং সেন্টার চালু করেছিল। এ পর্যন্ত ৩০ জন স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল, পেনড্রাইভ এবং কম্পিউটারের একাধিক হার্ডডিস্কে স্কুলছাত্রদের বিপুল পরিমাণ নগ্ন ছবি, ভিডিও এবং চাইল্ড পর্নোগ্রাফির কন্টেন্ট পাওয়া গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!