ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বন্যায় স্বপ্নভঙ্গ মৎস্য চাষিদের, ভেসে গেছে ৭০০ কোটি টাকার মাছ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০০, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বন্যায় স্বপ্নভঙ্গ মৎস্য চাষিদের, ভেসে গেছে ৭০০ কোটি টাকার মাছ
মীরসরাই উপজেলায় ভেসে গেছে ৭০০ কোটি টাকার মাছ -ছবি: সংগৃহীত

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ভেসে গেছে ৭০০ কোটি টাকার মাছ। সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। 

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ হাজার একর জমিতে গড়ে ওঠা মৎস্য প্রকল্প থেকে বছরে ৫০ হাজার টনের বেশি মাছ উৎপাদন হয়। এসব মৎস্য প্রকল্প থেকে এক হাজার ১২৭ কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেন চাষিরা। মুহুরীর চর মৎস্য প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ টনের বেশি মাছ যায় দেশের বিভিন্ন বাজারে।

১৯৮৪ সালে সরকার ফেনী নদীর মিরসরাই-সোনাগাজী অংশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের ফলে ৫০ হাজার একরের বেশি চর জেগে উঠে। এ বাঁধের দক্ষিণে গড়ে ওঠা মৎস্য প্রকল্প থেকে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ফেনীর মাছের চাহিদার ৭০ ভাগ পূরণ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় এ প্রকল্পের মাছ।

একাধিক মৎস্য চাষি জানিয়েছেন, উপজেলার ওসমানপুর, ইছাখালী ও ধুম এলাকায় প্রায় ১০ হাজার একর প্রকল্পে মাছ চাষ করে আসছেন চাষিরা। বন্যায় প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে প্রায় সাত হাজার একর প্রকল্পের মাছ। প্রতি একরে ১০ লাখ টাকা করে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা।

ধুম ইউনিয়নের মৎস্য চাষি আলী হায়দার টিপু বলেন, আমার জীবনের সব সঞ্চয় শেষ। এবারের বন্যায় আমার নয় কোটি টাকার বেশি মাছ ভেসে গেছে। পানি কমে যাওয়ার পর গিয়ে দেখি সব প্রকল্পের পাড় ভেঙে গেছে। এখন কীভাবে প্রকল্প মেরামত করবো, কীভাবে নতুন করে ব্যবসা শুরু করবো বুঝতে পারছি না।

মাছ চাষের জন্য বিখ্যাত মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় এবারের বন্যায় ফারুক সওদাগরের ১০ কোটি, সমমনা সমিতির প্রায় এক কোটি, শেখ ফরিদের ৪০ কোটি, শাহ আলমের চার কোটি, হেলাল উদ্দিনের ১০ কোটি, কামাল ও সাদেকের ছয় কোটি টাকা, মহিউদ্দিন সওদাগরের এক কোটি এবং সততা ফার্মের দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুহুরী প্রজেক্ট মৎস্য চাষি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, মৎস্যজোন প্রতিষ্ঠান হওয়ার পর থেকে এমন ভয়াল বিপর্যয়ে পড়েনি মৎস্য চাষিরা। এবারের বন্যায় অনেক চাষি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থা নেই। আমরা চাষিদের পক্ষ থেকে উপজেলা মৎস্য অধিদফতরে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জমা দিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা না পেলে এ শিল্পে অনেকের টিকে থাকতে কষ্ট হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করে গড়ে ওঠা স্বপ্নের বিনিয়োগ তাসের ঘরের মতো ধ্বংস হয়ে গেছে। এ বন্যায় মৎস্য চাষিদের প্রায় প্রতি একরে ১০ লাখ করে ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মীরসরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, বন্যায় মৎস খাতে আমাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যেটি মৎস্য চাষিদের দাবি ৭০০ কোটি টাকা। তবে আমরা এখনো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!