ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ফেরি সংকটে ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার তরমুজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ৩০ মার্চ ২০২৬
ফেরি সংকটে ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার তরমুজ
ছবি: সংগৃহীত

ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে ফেরির সংকটের কারণে সময়মতো নদী পার হতে না পেরে ট্রাকে থাকা বিপুল পরিমাণ তরমুজ ঘাটেই পচে যাচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

ট্রাকচালক ও কৃষকদের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে তারা তরমুজ বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঘাটে আটকে আছেন। ফেরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে পচনশীল এই পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে মেঘনা নদীর নাব্যতা সংকট ও ঘাটের অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। পাশাপাশি ইলিশা ও লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরী ফেরিঘাটে তরমুজবাহী ট্রাক থেকে নীরবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

দ্বীপ জেলা ভোলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। কিন্তু দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একমাত্র নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবহন সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইলিশা ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে তরমুজ ভর্তি অর্ধশতাধিক ট্রাক ফেরির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ট্রাকের তরমুজ ইতোমধ্যে পচে যাওয়ায় সেগুলো রাস্তার পাশে ফেলে দিতে দেখা গেছে। প্রতিটি ট্রাকে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকার তরমুজ রয়েছে।

চরফ্যাশন থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক মহিউদ্দিন ও ছিদ্দিক জানান, দ্রুত ফেরিতে উঠতে পারবেন ভেবে তারা ঘাটে এসেছিলেন, কিন্তু এখন অনির্দিষ্ট সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অন্য ট্রাকচালক কাদের ও শাজাহান বলেন, ঘাটে কোনো উন্নয়ন হয়নি, নেই পর্যাপ্ত পার্কিং, বিশ্রামাগার বা টয়লেটের ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে অতিরিক্ত খরচ দিতে হচ্ছে।

নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি পারাপারে সময়ও বেড়েছে। আগে যেখানে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাগত, এখন সময় লাগছে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা।

ট্রাকচালক মোশাররফ জানান, দুই দিন অপেক্ষার পর ফেরিতে ওঠার সিরিয়াল পেয়েছেন, তবে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

কৃষকরাও হতাশ। চরফ্যাশনের তরমুজ চাষি বাবুল পলোয়ান, আব্দুর রব ও তুহিন বলেন, ভালো ফলন হলেও স্থানীয় বাজারে দাম না পেয়ে তারা ঢাকায় পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফেরি সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে তরমুজ ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজি অভিযোগ করেন, ঘাটে কৃষিপণ্যের কোনো নিরাপত্তা নেই এবং তরমুজবাহী ট্রাক থেকে অবৈধভাবে চাঁদা নেয়া হচ্ছে।

তবে বিআইডব্লিউটিসির ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ খান দাবি করেন, ফেরির কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে এবং নাব্যতা সমস্যার কারণে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!