শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট, ভোগান্তি
আধুনিক ছয়তলা ভবন, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ১০০ শয্যার অবকাঠামো—সবই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের তীব্র সংকটে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা মিলছে না। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। এমনকি সামান্য রক্ত পরীক্ষার জন্যও রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ওষুধের সংকটও বাড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে আধুনিক ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালটি শিবচর উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে কিংবা আংশিক সেবা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
.png)
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সাফিনা খাতুন বলেন, হাসপাতালে এসে ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাই না। চিকিৎসকের সংকট রয়েছে, আর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে করা যায় না। অনেক সময় বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়।
অপর রোগী আখি খাতুন বলেন, গাইনি সমস্যার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে।
আরেক রোগী শাহীন সরদার বলেন, হাসপাতালের আধুনিক ও সুন্দর ভবন রয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় চিকিৎসাসেবা নেই। আমরা চাই সরকার দ্রুত সব শূন্য পদে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করুক।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের অভাবে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা যায় না। ফলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এছাড়া সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধও হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের অনুমোদিত ৫১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩১ জন। তবে তাদের মধ্যে ১১ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত থাকায় হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক। এই সীমিত জনবল দিয়েই বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা হচ্ছে।

শুধু চিকিৎসকই নন, নার্সের ৬টি পদ, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের ৩টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৯টি পদও খালি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটের কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ অন্যান্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ হলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র নির্ভরতার এই হাসপাতালকে কার্যকর করতে হলে অবিলম্বে শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং ল্যাবসেবাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।