ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
পিকআপভর্তি ১৩ ধরনের পণ্য উদ্ধার

শরীয়তপুরে নকল পণ্য বিক্রি, একজনকে কারাদণ্ড

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৬, ১৭ আগস্ট ২০২৬
শরীয়তপুরে নকল পণ্য বিক্রি, একজনকে কারাদণ্ড
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহের পর কার্ড বিতরণ। এরপর সেই কার্ডের মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ। তবে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়ে যায় পণ্যগুলোর মান ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন। পরে পিকআপভর্তি পণ্য উদ্ধার করে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের সমিতির বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলোরা ইয়াসমিন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম সুজন সরদার। তিনি ‘নবদ্বীপ ডেইলিসেবা ফাউন্ডেশন’-এর কর্মী বলে জানা গেছে।

Advertisement

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফাউন্ডেশনের লোকজন চিতলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দি ও ঝাঁউচর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করেন। পরে প্রতি কার্ডের জন্য ২০ টাকা নিয়ে তাদের একটি করে কার্ড দেওয়া হয়। ওই কার্ডের মাধ্যমে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের কথা বলা হয়।

সোমবার সকালে সুজন সরদার একটি পিকআপ নিয়ে ওই এলাকায় পণ্য বিক্রি করতে আসেন। কার্ডধারীদের কাছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের পণ্য ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রির কথা বলা হয়।

পণ্যের মধ্যে ছিল চিনি, ডাল, সয়াবিন তেল, পোলাও চাল, নারকেল তেল, চা-পাতা, ডিটারজেন্ট, গোসলের সাবান, স্কিন মাজনী, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও ব্যাগসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

তবে পণ্যগুলো নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা সুজন সরদারকে পিকআপসহ আটক করেন। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা পণ্যগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, পিকআপে থাকা পণ্যগুলো বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ও নকল। পরে ১৩ ধরনের ১২৩ প্যাকেট পণ্য জব্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সুজন সরদারকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা পণ্যসহ পিকআপটি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাঈদ মাহমুদ দাদন বেপারী বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে ফাউন্ডেশনের লোকজন আমাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়েছিলেন। পরে একটি কার্ড দেন। সোমবার ওই কার্ডের মাধ্যমে কম দামে পণ্য দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু পণ্যগুলো দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে এলাকাবাসী পণ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করে।’

তবে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সুজন সরদার নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভুয়া পণ্য বিক্রি করি না। আমরা ১ হাজার ৫০০ টাকার পণ্য ১ হাজার ১০০ টাকায় দিচ্ছি।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, ‘এলাকাবাসী একটি পিকআপভর্তি পণ্য আটক করে আমাদের খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পণ্যগুলো পরীক্ষা করে নকল ও অনুমোদনহীন বলে দেখতে পাই। সেখানে ১৩ ধরনের ১২৩ প্যাকেট পণ্য ছিল। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে বুঝিয়ে এসব পণ্য বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ কারণে সুজন সরদারকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুজনকে এর আগেও আইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। জব্দ করা পণ্য ও পিকআপটি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।’

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নকল ও অনুমোদনহীন পণ্য বাজারজাতের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!