রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর স্বজনরা। নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
.png)
ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী নন্দিনী নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি অস্বাভাবিক নরম দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নন্দিনীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধান চন্দ্রকে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
বাবা-মায়ের কারাদণ্ড
মামলায় বিধান চন্দ্রকে হত্যার প্রধান আসামি এবং তার বাবা-মাকে মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা-মাকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
আদালতের এ রায়ে নিহত শিশুর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।