ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জুয়াড়িদের হামলায় ​শিক্ষকের মৃত্যু, উত্তপ্ত লালমনিরহাট

হামলাকারীদের বাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ২২ আগস্ট ২০২৬
জুয়াড়িদের হামলায় ​শিক্ষকের মৃত্যু, উত্তপ্ত লালমনিরহাট
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে মাদক কারবার ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করে হামলার শিকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব। 

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার রাতেই হামলায় অভিযুক্তদের বাড়ি ঘরে উত্তপ্ত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অগ্নিসংযোগ করেছেন।

Advertisement

নিহত কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রভাষক ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে আরিফুল ইসলাম নিজ গ্রামের মাদক ও অনলাইন জুয়া বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করেছিলেন। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত গ্রামের রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী, মেহেদী হাসান, পারভেজ, মমিন মিয়া ও হৃদয় মিয়াসহ কয়েকজনকে ডেকে জুয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় রহিদুলের নেতৃত্বাধীন একটি দল। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে টানা ২১ দিন বেঁচে থাকার লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন আরিফুল।

এদিকে গত ৬ আগস্ট আরিফুলের ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। সমাজকে আলোর মুখ দেখাতে গিয়ে শিক্ষক আরিফুল নিজের নবজাতক সন্তানের মুখটিও দেখতে পারেননি। তার পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

আরিফুলের ওপর হামলার ঘটনায় তার বাবা গত ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান করে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় ৮ জন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত রহিদুলকে গত ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার হাতিরঝিল নয়াটোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

শুক্রবার শিক্ষক আরিফুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে।

আরিফুল ইসলামের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও সচেতন মহল।

আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, আরিফুলের মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা না দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!