সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু আছিয়ার পরিবার। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
.png)
রায় ঘোষণার পর মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে আছিয়ার মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন, এতে আমি খুশি হয়েছি। আমার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি চাই এই রায়ের কার্যকারিতা দ্রুত হোক। নিজের কানে শুনতে চাই, নিজের চোখে দেখতে চাই হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ফাঁসির রায় পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমি পূর্ণ সন্তুষ্ট বা শান্ত হতে পারছি না।’
রায় ঘোষণার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আছিয়ার মা। তিনি সরকারের কাছে তাদের পরিবার ও সন্তানদের নিরাপত্তা এবং দেখভালের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
মামলার নথি ও বিচারিক কার্যক্রমের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুর দিকে আট বছরের শিশু আছিয়া মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে সে নৃশংস নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।
গুরুতর আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আছিয়ার মৃত্যু হয়।
শিশুটির ওপর নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় মাগুরাসহ সারাদেশে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়
মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ২০২৫ সালের ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার প্রধান আসামি এবং শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
একই রায়ে অপর তিন আসামি শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন।
আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হাইকোর্ট সেই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
হাইকোর্টের এ রায়ে আছিয়ার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করলেও দ্রুত রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের রায় কার্যকর হলে তারা তাদের সন্তান হত্যার বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণতা অনুভব করবেন।