বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ মশিয়ুর রহমান আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় ছিল।
আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন মশিউর রহমান উৎস। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জহিরন আকতার জুইয়ের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা নিয়ে তাঁর কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি ক্ষুব্ধ হন।
.png)
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিক উৎসকে হত্যার জন্য জুই আসামিদের সাড়ে তিন লাখ টাকায় ভাড়া করেন। ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজের পর বাসা থেকে নগরের জিএল রায় রোডে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার কার্যালয়ে যান উৎস। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে পূর্বপরিচিত রুবেল তাঁকে তাঁর ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কাজ শেষ করে রাত ৯টার দিকে অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
পরে বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে আসামিদের হামলার শিকার হন উৎস। তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ একটি বস্তায় ভরে নগরের ধর্মদাস এলাকার একটি জমিতে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক উৎসের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে জহিরন আকতার জুইকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তের সময় এলিন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। পরে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড, এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর সরকারপক্ষের আইনজীবী বেলাল হোসেন বলেন, সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস হত্যা মামলায় তাঁরা প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার পাননি। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চলা মামলার রায়ে সাংবাদিক মহল ও নিহতের পরিবারের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।