ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাঙ্গামাটি থেকে মাসে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাঙ্গামাটি থেকে মাসে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে
রাঙ্গামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটি জেলা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন রাঙ্গামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ইউপিডিএফের দৃশ্যমান ত্রাণ তৎপরতা না থাকার দাবি তুলে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গামাটি মারী স্টেডিয়ামে ‘রাঙ্গামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি পাহাড়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ইউপিডিএফ পাহাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বললেও সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, শুধু রাঙ্গামাটি জেলা থেকেই প্রতি মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

Advertisement

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা ও বিভিন্ন দুর্যোগে পাহাড়ের বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁদের সহায়তায় ইউপিডিএফের উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রাণ কার্যক্রম দেখা যায়নি। এ অবস্থায় সংগঠনটি কাদের জন্য আন্দোলন করছে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ইউপিডিএফকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, চাঁদাবাজিই সংগঠনটির মূল কর্মকাণ্ড। এ বিষয়ে পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইউপিডিএফের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণকে বিরক্ত করবেন না। সেনাবাহিনীকে আপনাদের প্রতিহত করতে হবে না। পাহাড়ের জনগণই আপনাদের প্রতিহত করা শুরু করেছে এবং তারাই আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুধু নিরাপত্তা ও খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কল্যাণেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, চোখের ছানি অপারেশন এবং মেশিন মেরামত ও মেকানিক্যাল ফিটিংয়ের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টি, বন্যা ও দুর্যোগের সময় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে সেনাবাহিনী পাশে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘সেনাবাহিনী দেশকে ভালোবাসে, অঞ্চলকে ভালোবাসে এবং অঞ্চলের মানুষকে ভালোবাসে।’

খেলাধুলায় সম্প্রীতির বার্তা

অনুষ্ঠানে তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন রিজিয়ন কমান্ডার। তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, দলীয় সমন্বয় ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাঙ্গামাটি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘খেলার মাঠে প্রতিযোগিতা, মাঠের বাইরে সম্প্রীতি’এই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত রাঙ্গামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বরকল ও লংগদু উপজেলা ফুটবল দল। টুর্নামেন্ট ঘিরে মারী স্টেডিয়ামে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে ক্রীড়ামুখী করতেও টুর্নামেন্টটি ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, জেলা প্রশাসক মিজ্ নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, ডিজিএফআই রাঙ্গামাটির কর্নেল জিএস শাখার কর্নেল মোহাম্মদ সাদাত বিন শহীদ, ক্রীড়া সংগঠক ও রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-M-02
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!