ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

তিতাস কমিউটারের কাউন্টারে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৩২, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তিতাস কমিউটারের কাউন্টারে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ
ট্রেনের কাউন্টারের সামনে হট্রগোল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে ঢুকে স্টাফদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে পৌর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, নাজমুল হুদা সানি নামে ওই নেতা কাউন্টারের কর্মীদের মারধর করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ঘটনায় কাউন্টার ম্যানেজার মহিন উদ্দিন সজীব ও বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহতদের অভিযোগ, তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারের এজেন্টশিপ নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন নাজমুল হুদা সানি। তবে ট্রেনটির ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এতে সাড়া না দেওয়ায় তার মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

তাদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে বুকিং ক্লার্ক কাউসার হোসেনকে ফোন করেন সানি। কাউসার ফোন না ধরায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কাউন্টারে এসে তাকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় কাউন্টার ম্যানেজার সজীবকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কাউন্টারের কর্মীরা টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেন। এতে সাময়িকভাবে কাউন্টার বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল হুদা সানি। তিনি বলেন, কাউন্টারের কর্মীরা নিয়মিত কালোবাজারিদের কাছে বেশি দামে টিকিট বিক্রি করেন বলে যাত্রীরা তাকে জানিয়েছেন। কাউন্টারে পর্যাপ্ত টিকিট থাকার পরও যাত্রীরা টিকিট পান না—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি কর্মীদের কাছে জানতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছে, তবে কাউকে মারধর করেননি।

সানি আরও অভিযোগ করেন, তিন হাজার থেকে চার হাজার টিকিট থাকলেও অল্পসংখ্যক টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করে বাকিগুলো কালোবাজারিদের কাছে দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্টার কর্মীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. সাকির জাহান বলেন, টিকিট বিক্রির সময় কাউন্টার ম্যানেজার ও বুকিং ক্লার্ককে মারধরের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনার পর কর্মীরা কাউন্টার বন্ধ করে চলে যাওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহআলম মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার অভিযোগ ও টিকিট বিক্রি সাময়িক বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/বি.বাড়িয়া/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!