ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা রাস্তায় নেমেছি’

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:১৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা রাস্তায় নেমেছি’
জামায়াত আমির। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা রাস্তায় নেমেছি’ এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই লড়াই জনগণের জন্য, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। সেই লড়াইয়ের আওয়াজ নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব। এর মধ্যে কোনো বিরতি নেই, এই কাফেলা অবিরাম চলতেই থাকবে।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ টাঙ্গাইল অতিক্রমকালে নগর জালফৈ বাইপাস এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

Advertisement

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম দফার লংমার্চ সফল হয়েছে এবং তাতে মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এরপর থেকেই সরকার লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ ভোটের রায় কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের সঙ্গে কেন বেঈমানি করা হয়েছে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। জাতি যেসব বিষয় চায়, সেগুলো দিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সব ধরনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে। সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে। তাদের দাবি এখন আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা আরও বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনেই সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফার ঘোষণাও আসতে পারে।

পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি স্বৈরাচারকে হটিয়েছি, এখন নতুন স্বৈরাচার গজিয়ে উঠেছে বাংলাদেশে।’

তিনি অভিযোগ করেন, গত সাত মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ এবং বৈষম্য দূর করার যে প্রত্যাশা ছিল, সেগুলো পূরণ হয়নি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার যদি জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং তাদের শান্তিপূর্ণ বক্তব্যকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ১১ দলীয় ঐক্য সরকার যে ভাষা বুঝবে, সে ভাষায় কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের দাবিতে গণভোটে রায় দিয়েছে। সেই সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের গণরায়কে অসম্মান করার চেষ্টা থেকে সরকার বিরত না থাকলে তাদের পরিণাম অতীতের মতোই হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়। কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই টাঙ্গাইলে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

পরে জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সকাল ১০টার দিকে পথসভা শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান।

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/টাঙ্গাইল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!