ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করে কাঁদলেন এমপি মনিরুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:১৩, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করে কাঁদলেন এমপি মনিরুল হক
কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে ফোন করে কাঁদলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় স্বরাষ্ট্রসচিবকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করেন এমপি মনিরুল হক। এমপি মনিরুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এর ভিডিও প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Advertisement

ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে.... শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে।’

পরে তিনি বলেন, ‘আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কিনা। এই ব্যাপারে একটু তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘জ্বি, শুনেছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করবো। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি।’

পরে মনিরুল হক বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’

এর আগে, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাসায় যান এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ছেলেকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই?’

নাহিদা বেগম আরও বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অন্যায় করেছে। তার কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশ?’

ছেলেকে হারিয়ে কীভাবে জীবন কাটাবেন, সেই অসহায়ত্বের কথাও বলতে থাকেন তিনি। বলেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাবো? আমি আমার জীবন পার করবো কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করবো কেমনে।’

মায়ের এসব কথা শুনে মনিরুল হক চৌধুরীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’

নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকায় অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!