৫ বছরে শেষ হয়নি কয়রার পর্যটনকেন্দ্র নির্মান কাজ
সুন্দরবন উপকূলে খুলনার কয়রা উপজেলার অবস্থান। এই উপজেলায় রয়েছে পর্যটনে অপর সম্ভবনা। এই সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর গোলখালিতে একটি পর্যটনকেন্দ্রে স্থাপনের অনুমোদন দেয় ট্যুরিজম বোর্ড। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে গেলে বনবিভাগের আপত্তিতে সম্ভব হয়নি। এরপর কয়রা সদর ইউনিয়নের কেওড়াকাটায় পর্যটনকেন্দ্র নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। ৫ বছর পার হয়েছে কিন্তু নির্মান কাজ শেষ হয়নি।
প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় না হওয়ায় নির্মাণকাজ থমকে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে সুন্দরবনসংলগ্ন সম্ভাবনাময় এ পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
.png)
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৬ নং কয়রা গ্রামের শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধের পাশে ২০ একর জমিতে নির্ধারণ করা হয়েছে কেওয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের এলাকা। এখানে গোলপাতা থেকে শুরু করে ম্যানগ্রোভ বনের প্রায় সব প্রজাতির গাছ রয়েছে। প্রথম দেখাতেই মনে হবে এটি সুন্দরবনেরই অংশ। নদীর পূর্বপাশে সুন্দরবন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র উপভোগ করার জন্য নির্মান করা হচ্ছে চারতলা বিশিষ্ট ওয়াচ টাওয়ার। টাওয়ারের ১ম তলার চারটি পিলার ও সিঁড়ির একটি মাত্র ধাপ নির্মান করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘কয়রা সদর ইউনিয়নে কেওড়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১৯১ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ১৫৯ টাকায় সৈয়দ জিয়াউল হক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৯ মে’র মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। বরং অর্থ ছাড়ের জটিলতায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের জন্য একটি ওয়াচ টাওয়ার ও ওকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা। সুন্দরবনসংলগ্ন হওয়ায় কেওড়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ওয়াচ টাওয়ারটি নির্মিত হলে দর্শনার্থীদের জন্য এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ আরও বাড়বে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে কেওড়াকাটা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে বিকশিত হয়নি। ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকলে পর্যটনকেন্দ্রটির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
কয়রা উন্নায়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, যথাসময়ে অর্থ ছাড় না হওয়ায়কয়রা সদর ইউনিয়নের কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করে বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করা দাবি জানান তিনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জিয়াউল হক বলেন,পর্যটন কেন্দ্র নির্মানে প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অর্থ ছাড়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই মূহুর্তে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ ছাড় হলে পুনরায় কাজ শুরু করবো।
পর্যটন কেন্দ্রের নির্মান কাজ শেষ হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে দাবি করেন তিনি।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ-আল বাকী বলেন, অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে জেলায় চিঠি দিয়েছি। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে।
উল্লেখ্য, পর্যটনে অপর সম্ভাবনাময় এই উপজেলায় সুন্দরবনের পাশাপাশি রয়েছে মসজিদকুড় মসজিদ, রাজা প্রতাপাদিত্যের বাড়ি,খালে খাঁর ৩৮ বিঘা দিঘি,আমাদী বুডো খাঁ-ফতে খাঁর দিঘিসহ নানান ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনা।