ঢাকা,  রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পর্যটনকে কাজে লাগাতে পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৬, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পর্যটনকে কাজে লাগাতে পরিকল্পনা
সংগৃহীত ছবি

দেশের পর্যটন খাতকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মহাপরিকল্পনাটি প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি)। এর আগে নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব (ইকো), ওয়াটার, কমিউনিটিভিত্তিক ও গ্যাস্ট্রোনমি পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত আট সদস্যের একটি দল বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগের খসড়াটি পর্যালোচনা করছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার পর্যালোচনা এখন শেষ পর্যায়ে। অক্টোবরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার পর বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর জাতীয় পর্যটন কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে মহাপরিকল্পনা প্রকাশের আশা করছে বিটিবি।

পর্যটন বোর্ডের উপপরিচালক (পরিসংখ্যান, গবেষণা ও পরিকল্পনা) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মহাপরিকল্পনা তৈরিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ কাজে সরাসরি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আগের তৈরি খসড়াটিই বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হচ্ছে।

মহাপরিকল্পনায় দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত পর্যালোচনায় এ সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সম্প্রতি পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাটও জানিয়েছেন, ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।
তালিকায় লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, সোমপুর মহাবিহার, ইনানী সমুদ্রসৈকতসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটনকেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রয়েছে। ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনাও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো পরিবেশসংবেদনশীল এলাকায় ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যটনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি না হয় এবং কোনো গন্তব্যের ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকেও নজর থাকবে।

গ্যাস্ট্রোনমি পর্যটনের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় খাবারকে কেন্দ্র করে পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলার উদ্যোগ থাকবে। আর ওয়াটার ট্যুরিজমে নদীভ্রমণ, নদীর তীরে ওয়াকওয়েসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।


পর্যটন খাতে তথ্যের ঘাটতি পূরণে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের পর্যটনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মহাপরিকল্পনায় বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা অধ্যায় রাখার কথাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি পর্যটকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, পর্যটনকেন্দ্রের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং জোরদার করা জরুরি। ভ্রমণ ব্যয় ও বিনোদন সুবিধার সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশি পর্যটকদের একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে চলে যায় বলেও তারা মনে করেন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে ২০১৯ সালে একটি কৌশলগত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোভিড-১৯ মহামারি ও পরবর্তী প্রশাসনিক নানা কারণে সেটির বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হয়।
বর্তমানে সেই খসড়াকে সংশোধন ও পর্যালোচনা করে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করার আশা আগেই জানিয়েছিলেন বিটিবির সিইও মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, সাইকেল শোভাযাত্রা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সিটি ট্যুর, পর্যটন অংশীজন ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রদর্শনী।

৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১২টি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী স্টল থাকবে। একই আয়োজনে প্রথমবারের মতো ১৩টি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!